ঢাকা | অক্টোবর ৮, ২০২৬ - ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আক্রান্ত তত্ত্বাবধায়কসহ ১১১

  • আপডেট: Wednesday, October 7, 2026 - 10:45 pm

স্টাফ রিপোর্টার: উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল এবং প্রতিবেশী চাঁপাইনবাবগঞ্জে হু-হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৬৫ জন ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী সার্জনসহ মোট ১১১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামিম আহমেদ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান পৃথক তথ্যে এ ভয়াবহ চিত্রের কথা নিশ্চিত করেছেন। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া জোস্না আরা (৫০) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার দুপুরে তিনি রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের নথিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিন্ড্রোম’ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালে আগের দিন ভর্তি ছিলেন ১৫৬ জন।

নতুন ৬৫ জন ভর্তি, ৪৫ জন ছাড়পত্র পাওয়া এবং একজনের মৃত্যুর পর বর্তমানে হাসপাতালে রেকর্ড ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে সর্বমোট ১ হাজার ৩৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ১৯৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এমনকি স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরাও বাদ পড়ছেন না। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার গত রোববার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকায় নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন। এছাড়া হাসপাতালের অর্থো-সার্জারি বিভাগের সহকারী সার্জন ফজর আলী লাল গত মঙ্গলবার ডেঙ্গু পজেটিভ হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৫১ জনসহ পাঁচ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ৬৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ৮০ জনসহ জেলার পাঁচটি হাসপাতালে মোট ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। চলতি বছরে জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১৮৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে রোগীর চাপ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও চিকিৎসাসেবা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস