ঢাকা | অক্টোবর ৮, ২০২৬ - ১২:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

  • আপডেট: Wednesday, October 7, 2026 - 10:39 pm

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্রে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা ১ম ইউনিটটি গত ৫ই অক্টোবর সোমবার সকালে এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৩য় ইউনিটটি গত ৬ই অক্টোবর মঙ্গলবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পূর্ণ ২য় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকেই বন্ধ হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর ধরে ২য় ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে এই ইউনিটটি মেরামত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এরপর ১ নম্বর ইউনিটটি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল । নিম্নমানের ইকুমেন্ট ব্যবহার করায় আজ এ অবস্থা। সেটিও গত ৫ অক্টোবর সোমবার আগুন লেগে পুড়ে যায়।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন ইউনিটেগুলো যান্ত্রিক ত্রুটি সংস্কার করতে চীনা হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা মেরামত করতে কাজ করছে। তবে কবে নাগাদ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউনিট চালু হবে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি। এদিকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের মারাত্নক সংকট দেখা দিয়েছে উত্তরের ৮টি জেলায়।

২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পূর্ণ ৩য় ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৬০-১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হতো। ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন ২ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন কয়লা জ্বালানিতে ব্যয় হতো। ১২৫ মেগাওয়াট ১ নম্বর ইউনিটে প্রতিদিন ৫০-৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হতো। এই ইউনিটে প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার হতো।

গত ১লা নভেম্বর থেকে প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ শে মে ৩য় ইউনিটটি উৎপাদনে যায়। এই ইউনিটটি মেরামত করতে প্রায় ৪.৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় হয়। যা বাংলাদেশি টাকায় ৫৩ কোটি ৮২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ৫ বছর ১১ মাস ২য় ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। এটি মেরামত করার কোনো প্রয়োজন বোধ করছে না তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এই ইউনিটটি মেরামত করতে যা খরচ হবে সেই টাকা দিয়ে আরেকটি নতুন ইউনিট নির্মাণ করা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চীনা কোম্পানি সস্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করায়, এবং তারা সঠিকভাবে ইউনিটগুলি চালানোর সহযোগিতা না করায় দেশিয় প্রকৌশলীরা ইউনিটগুলি চালাতে পারছে না। এতে প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। বছরে এই ইউনিট দুটি প্রায় সময়ে বিকল হয়ে পড়ছে। উত্তরাঞ্চলে আমন মৌসুম চলছে, আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পর বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। আগামী বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করা হলে উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলায় ভারী শিল্প কলকারখানা ও কৃষিতে চরম ক্ষতি দেখা দিবে।

ইতোমধ্যে ৮টি জেলায় লোডশেডিংয়ের আওতায় পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই এলাকার উৎপাদনশীল শিল্পকারখানা। বর্তমান বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলি সচল করতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সরকারকে কোটি কোটি গচ্চা দিতে হবে।

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত নিরসন করার চেষ্টা করছে প্রকৌশলীর।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস