ঢাকা | নভেম্বর ৪, ২০২৬ - ১১:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট ও পাচার রোধে কড়া নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

  • আপডেট: Wednesday, November 4, 2026 - 10:02 pm

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে সারের কোনো ধরনের অভাব নেই এবং ভবিষ্যতে সংকট তৈরিরও কোনো অবকাশ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে ৩৫ শতাংশ বেশি সার মজুত রয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সার, বীজ, সেচ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ সার্বিক কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সীমান্ত এলাকাগুলোতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা সক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সারের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে সার পাচারের একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তে ইউরিয়া এবং ভারত সীমান্তে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার পাচারের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের পাচার তৎপরতা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবিসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

একই সাথে সার ডিলারদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন না করলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ‘ডিফল্টার’ ঘোষণা করা হবে। লাইসেন্স অন্য কারো কাছে ভাড়া দেয়া, হস্তান্তর করা কিংবা কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সাথে সাথে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া চলতি মৌসুমে ডিলারদের প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে সারের দোকান খোলা এবং বিকেল ৫টা থেকে ৬টার আগে দোকান বন্ধ না করার নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কৃষকদের পরিমিত ও সুষম সার ব্যবহারে সচেতন করার জন্য তিনি মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।

এর পাশাপাশি মৎস্য চাষে সারের সঠিক মাত্রা নিশ্চিত করতে মৎস্যজীবীদের যথাযথ পরামর্শ দেয়ার জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের প্রতি তাগিদ দেন তিনি। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন যে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ কৃষিবান্ধব এবং কৃষক স্বাবলম্বী হলেই দেশের সার্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তাই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার রেজাউল আলম সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাইদ চাঁদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সার ডিলার সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার জেলা প্রশাসকগণ অনলাইনে যুক্ত থেকে এবং বিভিন্ন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাগণ সরাসরি নিজ নিজ এলাকার সার সরবরাহ ও তদারকির চিত্র মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় ডিলার সমিতির প্রতিনিধিরাও সার সরবরাহ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ উপস্থাপন করেন।