ঢাকা | নভেম্বর ৫, ২০২৬ - ৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

সোনামসজিদ বন্দরে কর্মচারীদের কর্মবিরতি আটকা পড়েছে ৪০০ ট্রাক

  • আপডেট: Wednesday, November 4, 2026 - 11:18 pm

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন হয়েছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাস। এতে পণ্য খালাস করতে না পেরে বন্দরেই আটকা পড়েছে ভারত থেকে আসা ট্রাক। এদিকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় দুদিনে চার শতাধিক ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকরা কাজের অভাবে অলস দিন কাটাচ্ছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযৌক্তিক হয়রানির প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময়ে বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা কাস্টমস কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সুপারের নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষে ওয়াসিম আকরামসহ অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা তুচ্ছ বিষয়ে এবং বিনা কারণে কর্মচারীদের হয়রানি করে যাচ্ছেন। কোনো ভুলত্রুটি না থাকলেও ইচ্ছেমতো কার্ড আটকে রাখা, ফাইল সাবমিট করার পর বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা এবং আগে না জানিয়ে হঠাৎ করে নতুন নতুন আইন দেখিয়ে প্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করার মতো ঘটনা ঘটছে। এছাড়া কর্মচারীদের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চরম আকার ধারণ করেছে।

তারা আরও বলেন, তুচ্ছ অজুহাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করছেন এবং যাত্রীদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করেন। রাতের বেলা দীর্ঘ সময় অফিসে এসি চালিয়ে রাখা এবং নিয়মবহির্ভূত ভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত ট্যাক্স বা জরিমানা আদায়ের মতো হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তিনি। আব্বাস আলী নামের এক আন্দোলনকারী জানান, বিগত দিনে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই তারা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ ভাবে কাজ করতে পারলেও বর্তমান কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্ত ও খামখেয়ালির কারণে বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

একজন আমদানিকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে কোনো কারণ ছাড়াই পণ্য চেকিংয়ের নামে সবগুলো গাড়ি পানামার ভেতর আনলোড (পণ্য খালাস) করার নির্দেশনা জারি করেন। এতে করে পণ্য খালাসের বাড়তি খরচ ওই আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে বহন করতে হয়।

অবিলম্বে এ স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। কারো সঙ্গে অশালীন বা খারাপ আচরণ করা হয় কিনা, তা জানা নেই। তাদের দাবিগুলো শোনার জন্য প্রতিনিধি দলকে আলোচনায় বসার অনুরোধ করা হলেও, তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলে আন্দোলনের কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কারো ফাইল আটকে রাখা বা কাউকে হয়রানি করার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

অন্যদিকে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল উদ্দিন জানান, কর্মবিরতি চলার কারণে বন্দরে ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদিনে ভারত থেকে ৩৬০টি এবং দ্বিতীয় দিন ২২টি ট্রাক পণ্য নিয়ে বন্দরে এসেছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক বা ভারতীয় কোনো খালি ট্রাক বন্দর থেকে বের হয়নি। কর্মবিরতি চলতে থাকলে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের ভেতরে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এরই মধ্যে বন্দরে ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে সোনামসজিদ স্থল বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, গতকাল বুধবার বিকালে এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কাস্টমস কমিশনার না আসায় আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।