ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ - ১২:০২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৫

  • আপডেট: Tuesday, September 22, 2026 - 10:28 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ভর্তি সহায়তার ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে পুরো কলেজ এলাকা ও আশপাশে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কলেজে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির একটি হেল্পডেস্ক স্থাপন করেছিল।

মঙ্গলবার সকালে ওই হেল্পডেস্কের ব্যানার টাঙানো নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ থামার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নগরীর রাজপাড়া থানার মোড়ে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পদ্মা আবাসিক এলাকার রাজ্জাকের মোড়ে অবস্থান নেন।

ঘটনার বিষয়ে দুপক্ষই একে অপরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। ছাত্রশিবিরের রাজশাহী শাহ মখদুম থানা সভাপতি তানভীর মাহতাব জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে ভর্তি হতে পারে সেজন্য গত তিনদিন ধরে তারা সেখানে হেল্পডেস্ক পরিচালনা করছিলেন। সকালে হেল্পডেস্কের ব্যানার টানানোর পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা ছিঁড়ে ফেলে এবং প্রতিবাদ জানাতে গেলে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তাদের তিনজন কর্মী আহত হন। একই সুর মিলিয়ে রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের সাথে নিয়ে হেল্পডেস্কে হামলা চালিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার সহাবস্থান ও নিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে পদ্মা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, সকালের দিকে ছাত্রশিবিরের ৩০ থেকে ৪০ জন বহিরাগত নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে উল্টো ছাত্রদলের টাঙানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। ছাত্রদল এ ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করলেও শিবিরের হামলায় তাদের দুজন নেতাকর্মী আহত হন। মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে এমন তাণ্ডব বরদাশত করা হবে না এবং ভবিষ্যতে কোনো নেতাকর্মীর ওপর হামলা হলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ নেতারা আহত কর্মীদের দেখতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে এক অভিনব ও রাজনৈতিক সৌজন্যের চিত্র দেখা যায়; যেখানে ছাত্রশিবিরের আহতদের দেখতে যান ছাত্রদলের নেতারা এবং ছাত্রদলের আহত কর্মীদের দেখতে যান ছাত্রশিবিরের নেতারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, সকালে ব্যানার নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনার জেরে সংঘর্ষ হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে কলেজ ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।