ঢাকা | জুন ২, ২০২৬ - ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

নাটোর-জয়পুরহাটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ ভাইসহ ৫ জনের মৃত্যু

  • আপডেট: Monday, June 1, 2026 - 10:44 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগের নাটোর ও জয়পুরহাটে পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন ভাইসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই নারী, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার সকাল ও দুপুরে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নাটোরের সিংড়ায় মিনি ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী আপন মামাতো-ফুফাতো তিন ভাইয়ের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়ার বন্দর আমতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- লালপুর উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলামের ছেলে জীবন (১৮), নাটোর সদরের ইসলামবাড়ি গ্রামের মতালিব হোসেনের ছেলে মুক্তার হোসেন ওরফে হীরা (৩২) এবং নাটোরের আলাইপুর এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৬)।

ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, সকালে মহাসড়কের বন্দর আমতলা এলাকায় একটি মিনি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি পালসার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই জীবন ও মুক্তার হোসেন মারা যান। গুরুতর আহত সাইফুলকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। তারা নাটোর থেকে মোটরসাইকেলে করে সিংড়ার দিকে বেড়াতে যাচ্ছিলেন।

এদিকে, এর আগের দিন গত রোববার রাত সাড়ে ৮টায় সিংড়া উপজেলার পুণ্ডরী গ্রামীণ সড়কে অজ্ঞাত এক বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আসমা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি পুণ্ডরী গ্রামের আজিম উদ্দিনের মেয়ে। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে দ্রুতগামী মিনি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুলাভাই ও শ্যালকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তা-চানপাড়া সড়কের খড়িকাটা নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের ইমন খন্দকার (২৬) এবং তার শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের ফেরদৌস হোসেন (১৩)। এই ঘটনায় ইমনের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (১৯) গুরুতর আহত হয়েছেন।

ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল ইসলাম ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমন খন্দকার তার স্ত্রী সুরাইয়া ও শ্যালক ফেরদৌসকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পাঁচবিবি এলাকায় খালার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে খড়িকাটা এলাকায় সড়কে শুকানোর জন্য বিছিয়ে রাখা অর্ধভেজা ধানের খড়ে মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে তারা সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। ঠিক ওই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মিনি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুলাভাই ইমন মারা যান। স্থানীয়রা গুরুতর আহত ফেরদৌসকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত সুরাইয়া বেগমকে নিকটবর্তী কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।