ঢাকা | জুন ২, ২০২৬ - ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীর বাজারে হিমসাগর: সরবরাহ থাকলেও দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার

  • আপডেট: Monday, June 1, 2026 - 10:44 pm

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের আমেজ শেষ হতে চললেও উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের মোকাম রাজশাহীর বানেশ্বর হাটে এখনো বেচাকেনায় তেমন গতি ফেরেনি। বাজারে প্রতিদিন আমের আমদানি বাড়লেও সেই তুলনায় ক্রেতা ও পাইকারদের উপস্থিতি বেশ কম।

বিশেষ করে, জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী গত শনিবার থেকে বাজারে রসালো ‘হিমসাগর’ বা ক্ষীরশাপাতি আম নামায় হাট জমজমাট হলেও কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ার অভিযোগ করছেন বাগানমালিক ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

গত রোববার দুপুরে বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশের সবজিবাজারে বসেছে আমের এই বিশাল হাট। ছোট ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে দলে দলে চাষিরা আম নিয়ে আসছেন। সরবরাহ এতই বেশি যে আমের গাড়িগুলো মহাসড়ক পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। তবে বিক্রেতারা আমের দাম হাঁকলেও ক্রেতার অভাবে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী গত শনিবার থেকে বাজারে হিমসাগর আম আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে আকার ও মানভেদে প্রতি মণ হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। এ ছাড়া মৌসুমের শুরুর আম গোপালভোগ প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, লক্ষণভোগ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং আঁটি বা গুটি আম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

হাটে গোপালভোগ ও হিমসাগর আম নিয়ে আসা কুবড়াতলী গ্রামের বাগানমালিক মো. মঞ্জু সাংবাদিকদের জানান, গতদিনই গোপালভোগ ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। আর ক্রেতারা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দাম বলছেন। ঈদের ছুটির কারণে এখনো দূরের পাইকাররা এসে পৌঁছাননি, তাই বাজারে এই ধস নেমেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সারা বছর বাগানের পরিচর্যায় যে খরচ হয়, মৌসুমে ভালো দাম না পেলে তা তোলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আরেক বাগানমালিক কাবিদ বাসার সাংবাদিকদের বলেন, আমদানি বেশি হওয়ায় বাজার কিছুটা পড়ে গেছে। হিমসাগর ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করলেও আগামী দিনগুলোতে দাম না বাড়লে বড় লোকসানের মুখে পড়তে হবে। গত বছরের তুলনায় বাজারের এই মন্দাভাবে হতাশ মো. বাপ্পিও। তিনি জানান, ঈদের আগে যে আম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা ক্যারেট বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৬০০ টাকাতেও কেউ নিতে চাইছে না। যেখানে গত বছর মৌসুমের শেষে গোপালভোগের দাম সাড়ে ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়েছিল, এবার শুরুতেই বাজার বেশ নরম।

আম কিনতে আসা ব্যবসায়ী ওসমান মিয়া ও আসিম মিয়ার মতে, গাছপাকা হিমসাগর বাজারে আসায় বড় সাইজের আমের দাম মোটামুটি ঠিক আছে, তবে ছোট আমের দাম কম। ৩০০ গাছের বাগান কেনা আসিম মিয়া জানান, এবার তার বাগানে লক্ষ্মণভোগ বেশি, কিন্তু গত বছরের চেয়ে দাম কম হওয়ায় তিনি বেশ চিন্তিত। তবে ব্যবসায়ীদের একাংশ এখনো আশা ছাড়ছেন না। তাদের ধারণা, দুই-এক দিনের মধ্যে ঈদের ছুটি কাটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় পাইকাররা বাজারে ফিরলে আমের চাহিদা ও দাম দুই-ই বাড়বে।

রাজশাহী বিভাগের আম উৎপাদনের প্রধান তিন জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর মধ্যে বানেশ্বর হাটই হলো অন্যতম প্রধান পাইকারি কেন্দ্র। চলতি মৌসুমের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী, গত ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানিপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ এবং ৩০ মে থেকে হিমসাগর বাজারজাত শুরু হয়েছে। এর পরবর্তী ধাপে আগামী ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো এবং ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি আম বাজারে আসবে। স্থানীয় প্রশাসন ও চাষিদের প্রত্যাশা, চলতি সপ্তাহেই দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের পদচারণায় আবার প্রাণ ফিরে পাবে বানেশ্বরের এই ঐতিহ্যবাহী আমের বাজার।