ঢাকা | মে ৩, ২০২৬ - ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই সপ্তাহেই চালু হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেই সেতু

  • আপডেট: Saturday, May 2, 2026 - 10:12 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই বছর ধরে অকেজো পড়ে থাকা কাচরার খালের ওপর নির্মিত সেতুটি অবশেষে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ায় অবসান ঘটেছে তিনটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর এলাকায় কাচরার খালের ওপর ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় তা অকেজো হয়ে ছিল। সামান্য বৃষ্টি বা জলাবদ্ধতায় সেতুর নিচ দিয়েও চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ত।

ফলে জনসাধারণকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো। গত বছরের ডিসেম্বরে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত ২৫ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার ঘোষণা দেন।

সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ হওয়ায় এখন সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই এই সংযোগ সড়ক নির্মিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও পথচারীরা।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মাতিন বলেন, সেতুটি দুই বছর আগে তৈরি হলেও সড়কের অভাবে আমরা সুফল পাচ্ছিলাম না। বর্ষায় আমাদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যেত। এখন সেতুটি চালু হওয়ায় আমাদের কষ্ট দূর হলো। তরিকুল ইসলাম নামে এক পথচারী জানান, গণমাধ্যমে খবর আসার পর সরকারের এমন দ্রুত পদক্ষেপে এলাকার মানুষ অত্যন্ত খুশি।

বর্তমানে সেতুতে যান চলাচল শুরু হলেও সংযোগ সড়কের সুরক্ষা দেয়ালসহ কিছু ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এতদিন কাজটি আটকে ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত থাকলেও এর আগেই শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ গত বছরের মার্চ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।