ঢাকা | মে ২, ২০২৬ - ১১:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাগমারায় এক রাতে ৬৫ গভীর নলকূপের মিটার চুরি: বিপাকে কৃষকরা

  • আপডেট: Saturday, May 2, 2026 - 10:11 pm

আবু বাককার সুজন, বাগমারা থেকে: রাজশাহীর বাগমারায় এক রাতেই ৬৫টি গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির পর ঘটনাস্থলে সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে চক্রটি। একসঙ্গে এতগুলো সেচ পাম্পের মিটার চুরি হওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার ও মঙ্গলবার রাতে বাগমারা থানার ফটকের সামনেসহ উপজেলার গোবিন্দপাড়া, আউচপাড়া, বাসুপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, গনিপুর ও মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি হয়।

চোর চক্রটি মিটার খুলে নেওয়ার পর সেখানে একটি মোবাইল নম্বর (০১৯৪৬-৫৯৪৭২৯) সংবলিত চিরকুট রেখে যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে মিটার ফেরতের বিনিময়ে বিকাশযোগে সাত থেকে দশ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পাঠানোর পর চক্রটি ঝোপঝাড় বা খড়ের গাদার নিচে মিটার রেখে দিচ্ছে।

শালজোড় গ্রামের সাইদুর রহমান ও তেলিপুকুর গ্রামের আসাদুল ইসলাম জানান, চোরদের দেওয়া নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী খড়ের পালার ভেতর থেকে চুরি হওয়া মিটার উদ্ধার করেছেন তারা। তবে বাগমারা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল কাসেম ও চাউল কল মালিক সিদ্দিকুর রহমান টাকা না দিয়ে আশপাশের ঝোপঝাড়ে নিজেদের মিটার খুঁজছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, এসব চুরির সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের অসাধু লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে। কারিগরি জ্ঞান ছাড়া এভাবে মিটার ও ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন। গত ছয় মাস ধরে এই এলাকায় একইভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

এ বিষয়ে নাটোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বাগমারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আসাদুল ইসলাম বলেন, মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। চোরদের দেওয়া নম্বরগুলো ট্র্যাকিং করলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, চোরদের ব্যবহৃত নম্বরগুলো ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের। তবে এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কেউ জড়িত কি না, সেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।