রাজশাহীর সব উন্নয়ন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে: তথ্য গোপন বা অবহেলায় নতুন প্রকল্প বন্ধের হুঁশিয়ারি
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন, নিবিড় তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছে।
বুধবার বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এসব নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণযোগ্য হবে না উল্লেখ করে সভায় আইএমইডির প্রতিনিধি জানান, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল প্রকল্পের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (e-PMIS) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন।
তিনি আরও জানান, কোনো মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা হতে পারে। যে-সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতা পুনরায় যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর বিলম্বের কারণ ও সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তিনি সভাকে জানান।
আইএমইডির প্রতিনিধি বলেন, কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন মাস আগে প্রস্তাব আইএমইডিতে পাঠাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত তদারকির অভাবে অনেক প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়। এ সমস্যা নিরসনে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি) এবং প্রজেক্ট বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তরপ্রধান ও জেলা প্রশাসকবৃন্দসহ শতাধিক কর্মকর্তা অনলাইনে সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাদের প্রকল্পের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, প্রকল্পের ব্যয় না বাড়িয়ে শুধু সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে—এমন ধারণা বাস্তবে সঠিক নয়, কারণ সময় বৃদ্ধির ফলে পরোক্ষভাবে ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। জনস্বার্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দপ্তরপ্রধান ও প্রকল্প পরিচালকদের আইএমইডি, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ এবং পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানান।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











