ঢাকা | জুন ৫, ২০২৬ - ১:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের দাবি

  • আপডেট: Thursday, June 4, 2026 - 10:58 pm

স্টাফ রিপোর্টার: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী ও এ খাতের সংগঠকরা।

বৃহস্পতিবার নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে যৌথভাবে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ক্লিন’, ‘পরিবর্তন’ এবং ‘বিডাব্লিউজিইডি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফেড)’ রাজশাহীর সভাপতি কল্পনা রায়। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান, পরিবর্তন পরিচালক রাশেদ রিপন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ তথা রাজশাহী অঞ্চল সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্থান। এখানে সরকারি ভর্তুকি ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সোলার সিস্টেম স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। বড় পরিসরের প্রকল্পের বাইরেও ‘এগ্রিভোল্টাইক’ পদ্ধতিতে সবজি খেতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে একই সঙ্গে চাষাবাদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া রাজশাহীর মাছ চাষের জলাশয়গুলোতে ভাসমান সৌর প্যানেল বা ‘ফ্লোটিং সোলার প্যানেল’ স্থাপন করা যেতে পারে। বাসা-বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ‘রুফটপ প্যানেল’ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নগরীর সুউচ্চ ভবনগুলোতে রুফটপ প্যানেল স্থাপন করা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে কার্যকর নয়। এগুলো অবিলম্বে সচল করতে হবে। পাশাপাশি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সোলার পাম্পগুলোও পুনরায় সচল করার দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, তারা একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজশাহীর ফলিয়া বিল এলাকায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই নেসকোর কাছে বিক্রি করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎব্যবস্থা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি ও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনও অত্যন্ত কম। অথচ রুফটপ সোলার, সৌর সেচ, এগ্রিভোল্টাইকস, ফ্লোটাভোল্টাইকস এবং কমিউনিটি-মালিকানাধীন জ্বালানি ব্যবস্থার মতো উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অধিক বরাদ্দ, সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, সহজ ঋণ সুবিধা এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।