ঈদকে সামনে রেখে মাদকের দাপট, রাণীনগরে বেড়েছে চুরির উপদ্রব
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার গ্রামগঞ্জে ব্যাপক হারে মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাদকের এই বিস্তারের সাথে পাল্লা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি ও দোকানপাটে চোরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
এমনকি খোদ সাংবাদিক ও পুলিশের মোটরসাইকেল চুরির মতো ঘটনাও ঘটছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও টহল ব্যবস্থা থাকার পরও চুরির এই হিড়িক থামানো যাচ্ছে না। পুলিশি অভিযানে প্রতিদিন মাদক ও চুরি মামলায় আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছে অধরা।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা। সভায় উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য যেকোনো মূল্যে রাণীনগরের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন।
আইন-শৃঙ্খলা সভার আলোচনা থেকে জানা যায়, ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী সময়ে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশে মাদক কারবারিরা দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কম দামে মদ, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও নেশাজাতীয় ইনজেকশন নিয়ে আসছে। এসব মাদকদ্রব্য ট্রেন, বাস ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে অভিনব কৌশলে বগুড়ার আদমদীঘি, নন্দীগ্রাম, রাজশাহীর বাগমারা, নাটোরের সিংড়া এবং নওগাঁর মান্দা ও সান্তাহার রুট দিয়ে রাণীনগরে প্রবেশ করছে।
কারবারি ও তাদের আশ্রয়দাতারা প্রথমে নিজেদের বাড়িতে এসব মাদক মজুত করছে, যা পরে গ্রামীণ অঞ্চলের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই চক্রে দিন দিন নারী ও কিশোর-কিশোরীদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মূল হোতারা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। আর মাদকের এই করাল গ্রাসের কারণেই এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ মারাত্মক রূপ নিয়েছে।
লাইসেন্সের আড়ালে চলছে কারবার: উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু সভায় জানান, আমার ইউনিয়নে প্রায় ৬ জনের মদ সেবনের লাইসেন্স রয়েছে। এই ব্যক্তিরা কীভাবে মদ আনে এবং সেবন করে, তা কড়া নজরদারিতে আনা দরকার। এদের মাধ্যমেই নানা কৌশলে রাণীনগরে মাদক ছড়াচ্ছে। এর আগে লাইসেন্সধারী দুই-একজন গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কাজ করছে। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক তাইজুল ইসলাম জানান, আমরা নিয়মিত ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করছি। চলতি মাসে রাণীনগরে অভিযান চালিয়ে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য কারবারিরাও নজরদারিতে আছে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
রাণীনগর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান কঠোর। চলতি মাসে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারসহ ১০টি মামলা করা হয়েছে। মূল হোতাদের ধরতেও অভিযান চলছে। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে রাণীনগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন, এজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ‘মাদক প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের কাজ শুরু করেছি। এছাড়া চুরি রোধে প্রতি রাতে পুলিশের ৬টি টহল টিম মাঠে থাকে। চুরিপ্রবণ বাজারগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুল হাসান জানান, মাদক সেবন ও কারবারিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে সাজা দেয়া হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আগামীতে অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।










