ঢাকা | মে ২৫, ২০২৬ - ১০:৫০ অপরাহ্ন

তাহেরপুর পশুরহাটে শেষ মুহূর্তে বড় গরুর সঙ্কট

  • আপডেট: Monday, May 25, 2026 - 10:23 pm

মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে: রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া এবং নাটোর জেলার নলডাঙ্গা-এই দুই জেলার চার উপজেলার মিলনস্থল ঐতিহ্যবাহী তাহেরপুর বাজার। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছরই কোরবানি ঈদে এখানে বসে বিশাল পশুর হাট।

সোমবার ছিল ঈদের আগে এই হাটের শেষ দিন। শেষ মুহূর্তে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় হাট জমজমাট হয়ে উঠলেও বাজারে ছিল বড় গরুর তীব্র সঙ্কট। দুপুর থেকে পছন্দসই বড় গরুর খোঁজ করেও তা না পেয়ে শত শত ক্রেতাকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। তবে বড় গরুর সঙ্কট থাকলেও হাটজুড়ে ছিল ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর ব্যাপক সরবরাহ। বড় গরু না পেয়ে ক্রেতারা মাঝারি আকারের গরুর দিকে ঝুঁকছেন, ফলে এসব গরুর বেচাকেনাও হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ।

হাটে দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্রেতাদের দাবি, শেষ হাট হওয়ায় দাম কিছুটা চড়া। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতারা কাক্সিক্ষত দাম বলছেন না। গতকাল সোমবার তাহেরপুর পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, মাঝারি আকারের গরুর মধ্যে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দামের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা দামের গরুগুলো একক বা যৌথভাবে দু-একজনে কিনছেন। আবার ১ লাখ ৩০ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের মাঝারি গরুগুলো ৫ থেকে ৭ জন মিলে ভাগের কোরবানির জন্য কিনছেন ক্রেতারা।

হাটে গরু কিনতে আসা দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক আতাউর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, তাহেরপুরের মতো এত বড় ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট, অথচ বাজারে ২ লাখ টাকার ওপরে কোনো ভালো বড় গরু নেই। আমার বড় গরুর প্রয়োজন ছিল, কিন্তু না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বাগমারা বাসুবোয়ালিয়া গ্রাম থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের একটি ষাঁড় নিয়ে আসা বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, ক্রেতাদের সঙ্গে দামে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বিকেল পর্যন্ত গরু বিক্রি করতে পারেননি।

সুজন আলী নামের আরেক বিক্রেতা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, মাংসের বাজারের তুলনায় গরুর হাটের দাম কম। বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। সেই হিসাবে এক মণ মাংসের দাম পড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু হাটে ক্রেতারা এই হিসেবের চেয়েও অনেক কম দাম বলছেন। তবে পুঠিয়া উপজেলা থেকে আসা ক্রেতা রুবাইদ হোসেন রিদয় জানান, বাজারে বড় গরু না থাকলেও দাম তুলনামূলক স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার গরুগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমরা সাতজন মিলে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় একটি ভালো মাঝারি ধরনের গরু কিনেছি।

তাহেরপুর হাটের ইজারাদার সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত এখানে শুক্রবার সবচেয়ে বড় হাট বসে। সোমবার ছিল ঈদের শেষ হাট। এবার হাটে বড় গরুর আমদানি কিছুটা কম ছিল। সার্বিক ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। বড় গরু কম থাকলেও ছোট ও মাঝারি গরুর বেচাকেনা বেশ ভালো হয়েছে এবং শেষ হাটে আশানুরূপ কেনাবেচা হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।