ঢাকা | মে ২৫, ২০২৬ - ১০:৫৭ অপরাহ্ন

কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা বেড়েছে কামার শালায়

  • আপডেট: Monday, May 25, 2026 - 10:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে রাজশাহী মহানগরীসহ এর উপকন্ঠের কামার শালাগুলো। ঈদের আগমনী বার্তায় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ। এই শব্দ কেবল ধাতব নয়-এটি গ্রামীণ বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য রূপ।

রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট স্টেডিয়াম মার্কেট, কোর্ট বাজার, কাশিয়াডাঙ্গা, নওহাটা, বায়া, কাটাখালি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা কামার শালাগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। ঈদের আগে কামারদের হাতে সময় কম, কাজ বেশি। ছুরি, চাপাতি, বটি, হাসুয়া, দা-সবকিছুর চাহিদা এখন তুঙ্গে। নওহাটর কামার বাসুদেব জানান, “সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। এখনই আমাদের আসল মৌসুম। খেয়ে না খেয়ে কাজ করছি।” এক হাতে সাড়াশি, আরেক হাতে হাতুড়ি দিয়ে তিনি বস করছেন লোহা। পাশে ফসফস শব্দ তুলে চলছে হাপর। তার মতো আরও অনেকেই দিনরাত পরিশ্রম করছেন ঈদের আনন্দে অংশ হতে।

এইসব কামার শালায় তৈরি সরঞ্জামের দামও নির্ভর করে মান ও আকারের উপর। চাপাতির দাম ৮০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত, আর ছুরি ও বটি মিলছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। নতুন তৈরির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জাম পুড়িয়ে ধার দিতেও আসছেন অনেকেই। স্টেডিয়াম মার্কেটে আসা আমিনুল ইসলাম জানান, “আমার সব সরঞ্জাম আছে, এখন শুধু ধার করাতে এসেছি। অনেক ভিড়, প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে সিরিয়ালে আছি। কামারদের কাজ দেখে ভালোই লাগছে।” শহরের আধুনিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা। কিন্তু কোরবানির ঈদের সময় কামারদের উপস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দেয় তাদের গুরুত্ব। তাদের পরিশ্রম ও দক্ষতা কেবল প্রয়োজন মেটায় না, ঈদের আনন্দকেও করে আরও পরিপূর্ণ। কামার শালার টুংটাং শব্দ তাই শুধু প্রস্তুতির সুর নয়, এটি এক গৌরবময় ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ।