ঢাকা | মে ৮, ২০২৬ - ১০:৪৩ অপরাহ্ন

ভারতের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে শত শত কৃষি জমি: দিশেহারা কৃষকরা

  • আপডেট: Friday, May 8, 2026 - 10:00 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সীমান্তবর্তী রাধানগর ইউনিয়নে ভারত থেকে আসা ঢলের পানিতে ডুবে গেছে শত শত বিঘা জমির পাকা ইরি-বোরো ধান। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা বৃষ্টির ফলে অতিরিক্ত পানি। এ অবস্থায় শ্রমিক সঙ্কটের পাশাপাশি ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত রোববার পুনর্ভবা নদীর দিয়ে পাশের নওগাঁ জেলার সাপাহার ও পোড়শা উপজেলা হয়ে ঢলের পানি প্রবেশ শুরু করে রাধানগর ইউনিয়নে। সেই পানির প্রবাহ বেড়ে পুনর্ভবার একটি উপনদী দিয়ে ইউনিয়নের বিল কুজাইনসহ আশপাশের নিচু এলাকা ও বিলগুলোতে ঢুকে পড়ে। এতে ডুবে যায় বিস্তীর্ণ ধানখেত। কিছুটা ক্ষতি থেকে বাঁচতে তারা নৌকা নিয়ে পানিতে ডুবে ধান কাটছেন।

কৃষকরা বলছেন, প্রতি বছর নিয়মিত না হলেও ২-১ বছর পরপরই এই সমস্যায় পড়ছেন তারা। তবে ওই নিম্নাঞ্চলে চলাচলের জন্য যদি বিল কুজাইন সড়কের ওপর একটি সেতু করে দেয়া হয়, তবে দ্রুত ধান কেটে তারা সহজেই বাড়ি আনতে পারতেন। পরিবহন সঙ্কট হতো না। এখন দীর্ঘদিনের ব্রিজের দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওই উপনদী খনন করে দুপাশ বাঁধাইয়ের দাবি। নদীর দুপাশে বাঁধ দেয়া হলে পানি আর দুইপাশের বিল ও নিচু এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না।

রাধানগর ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, ঢলের পানি প্রবেশ করেছে হাজার হাজার বিঘা জমিতে। জলাবদ্ধ হয়ে কৃষকরা বসে আছেন পাকা ধান নিয়ে। তবে ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিল কুজাইন ও আশপাশের নিচু এলাকায় ক্ষতি সব থেকে বেশি। তবে পানি প্রবেশ করেছে ৯ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত। সমস্যা হলো নিচু এলাকার ধান কেটে পরিবহন করে ঘরে তোলার জন্য ওই এলাকায় সড়ক নেই। নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে। কুজাইন বিল এলাকায় যে সড়ক রয়েছে তা আরো দীর্ঘ করতে হবে।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সাকলাইন হোসেন বলেন, ওই এলাকায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। বিল কুজাইন এলাকায় সম্পূর্ণ ডুবে গেছে অন্তত সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির ধান। কৃষকরা প্রাণান্ত চেষ্টা করে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক ধান কেটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকির মুন্সি বলেন, ওই এলাকার সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। চলমান খাল কাটা কর্মসূচির অধীনে যদি নদী পুনঃখনন করে দুইপাশে বাঁধ দেয়া যায় তাহলে আর পানি প্রবেশ করতে পারবে না। এ জন্য খাল খননের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব বলেন, ঢলের পানি প্রবেশ এবং জলাবদ্ধতা সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত। সম্প্রতি ওই এলাকার সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান এলাকা পরিদর্শন করে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। যা বৃহস্পতিবার পাওয়া গেছে। এখন পুনর্ভবা ওই উপনদী চলমান খাল খনন কর্মসূচিতে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য রেগুলেটর বা স্লুইস গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।