রাজশাহীতে ছাত্রদল-শিবিরের মুখোমুখি অবস্থান, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
কলেজে সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন :
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জের ধরে মুখোমুখি অবস্থানে জড়িয়ে পড়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। শিবিরের পক্ষ থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাজশাহী ছাড়া করার হুমকির পর পাল্টা কঠিন জবাব দিয়েছে ছাত্রদল। দুই ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সরকারি কলেজে। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে হেল্প ডেস্ক বসায় ইসলামী ছাত্রশিবির। সকালে হেল্প ডেক্স সংলগ্ন ব্যানার টাঙানো ও ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি থেকে একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের রূপ নেয়। এতে ছাত্রশিবিরের তিনজন এবং ছাত্রদলের দুজনসহ মোট পাঁচজন আহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিবির সভাপতির আল্টিমেটাম ও হুঁশিয়ারি:
ঘটনার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সাহেববাজার এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে সোনাদিঘীর মোড়স্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে সভাপতির বক্তব্যে মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ইমরান নাজির চরম হুঙ্কার দিয়ে বলেন, আমরা ধৈর্যের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে কুত্তার মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করা হবে।
কর্মীদের ওপর হামলায় জড়িতদের প্রতি তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবির কোনো ভেসে আসা সংগঠন নয়। কোনো টোকাই মার্কা নেতার হামলায় আমাদের কর্মীদের রক্ত ঝরলে তার পিঠের চামড়া রাখা হবে না। জীবন দেব, কিন্তু আমার সহযোদ্ধাদের ওপর হামলা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর শিবিরের সাবেক সভাপতি এ কে এম সারওয়ার জাহান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন রাবি শাখার সাবেক সভাপতি আবদুর রহিম, নগর সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও খায়রুল ইসলাম।
ছাত্রদলের পাল্টা জবাব ও কঠোর হুঁশিয়ারি:
শিবির সভাপতির এ বক্তব্যের পরপরই রাতে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কঠোর ভাষায় পাল্টা জবাব দেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন।

শিবিরের এ ধরনের মন্তব্যকে শিষ্টাচারবহির্ভূত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমরান নাজির সাহেবের পৈতৃক ভিটা কুমিল্লায়, তিনি পিআর পদ্ধতিতে নেতা হয়েছেন। আর এই রাজশাহীতে আমাদের নাড়ি পোঁতা, জন্ম ও বসবাস। যখন মুখোমুখি লাগবেন, তখন টের পাবেন। ছাত্রদল রাজপথে নামলে ছাত্রশিবির তো দূরের কথা, ওই রাজাকারের সংগঠন রাজশাহীতে পা ফেলার জায়গা পাবে না। পদ্মা কলেজের ঘটনায় বহিরাগতদের নিয়ে এসে ছাত্রদলের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এমদাদুল হক বলেন, ছাত্রদল কেবল সামান্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ছাত্রদল যখন পুরোপুরি প্রতিরোধ করবে, তখন ইমরান নাজির আপনি ঢাকা-কুমিল্লার বাসও খুঁজে পাবেন না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা:
এদিকে, রাজনৈতিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান জানান, সকালে কলেজে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোড়ে মোড়ে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











