ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ - ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

৮ ফুটওভার ব্রিজের সুফল পাচ্ছে না রাজশাহী নগরবাসী

  • আপডেট: Wednesday, September 23, 2026 - 10:26 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটটি ফুটওভার ব্রিজ এখন পথচারী শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের লক্ষ্য নিয়ে সেতুগুলো তৈরি করা হলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল মিলছে না।

দীর্ঘ পথ আর সিঁড়ির ধকল এড়াতে অধিকাংশ মানুষ নিচ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। কেবল মাঝে মাঝে কিছু কিশোর-তরুণকে এসব সেতুতে উঠে ছবি তোলা বা টিকটক ভিডিও তৈরি করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মানুষের হাঁটার পথ ও স্থানভিত্তিক চাহিদা বিবেচনা না করে যেখানে-সেখানে সেতুগুলো বসানোর ফলেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ‘সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ৫০ কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচে এসব ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া এই সেতুগুলো নির্মাণ করে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাসুদ স্টিল ডিজাইন বিডি লিমিটেড এবং এমএসসিএল অ্যান্ড এমএসডিবিএল।

নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ গেট, লক্ষ্মীপুর মিন্টু চত্বর, নওদাপাড়া বাজার, তালাইমারী মোড়, বিনোদপুর মোড়, অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিচত্বর ও মিশন গার্লস স্কুলের সামনে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলা হলেও পথচারীদের তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা যায়, সড়কগুলোতে তীব্র যানজট না থাকায় পথচারীরা খাড়া সিঁড়ি ডিঙিয়ে ওপর দিয়ে পার হতে একেবারেই আগ্রহী নন।

তাছাড়া সেতুগুলোর ভেজা টাইলস পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের জন্য এগুলো ব্যবহারে চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। ফলে দরকারে ব্যবহারের বদলে কেবল অবসর সময়ে বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবেই ব্যবহাত হচ্ছে এই বিশাল অবকাঠামো।

নগরীর প্রধান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে নির্মিত সেতুর স্থান নির্বাচন নিয়েও চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সামনে নির্মিত সেতুটি মূল চারমুখী সংযোগস্থলে না থাকায় কোনো কাজেই আসছে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিম। একই রকম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম ও ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনুবা গণমাধ্যমকে জানান, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মূল গেটের সামনে সেতুর, কিন্তু তা না করে বিনোদপুর গেট থেকে বেশ কিছুটা দূরে অকার্যকর স্থানে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই ব্যর্থতার জন্য নগর কর্তৃপক্ষের ভুল পরিকল্পনাকে দায়ী করছেন।

রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল ওয়াকিল গণমাধ্যমকে জানান, রাজশাহী নগরীতে শুরুতেই ফুটওভার ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। জনপ্রবাহ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বাদ দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করায় জনগণের কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ ভেস্তে গেছে।

অবশ্য স্থান নির্বাচনের এই ভুল মানতে নারাজ রাসিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন।

তাঁর মতে, উপযুক্ত স্থানেই সেতুগুলো করা হয়েছে এবং সচেতনতার অভাবে মানুষ এতে উঠতে চাচ্ছে না। তবে সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, সেতুগুলোর উপযোগিতা বাড়াতে এবং পিচ্ছিল টাইলস সংস্কারসহ বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দূর করতে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস