ঢাকা | জুন ১, ২০২৬ - ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে এবারও চামড়ার দাম কম লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

  • আপডেট: Sunday, May 31, 2026 - 11:18 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে গতবারের মত এবারও সরকারি দরের চেয়ে কমদামে চামড়া বিক্রি হয়েছে। এছাড়া চামড়া কিনে এবারেও লোকসানে পড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন কোরবানির পর দুপুর থেকে চামড়া সংগ্রহ করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পাড়া মহল্লা থেকে সরকারি রেটের কমে চামড়া কেনেন তারা। তবে সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মৌসুমিদের থেকে খুব বেশি চামড়া কেনেননি। মসজিদ, মাদ্রাসার চামড়া কিনেছেন তারা। এতে শহরে প্রতি পিস গরুর চামড়া আকার ভেদে ২০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ছাগল ভেড়ার চামড়া বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৬০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার মান না বুঝে অতিরিক্ত মূল্যে চামড়া কেনেন, তাতে লবণ, শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে লাভ হয়না। তাতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দাম পাননি। এদিকে ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংক ঋণ আর ট্যানারির পরিশোধের টাকা থাকায় সামর্থ্য অনুযায়ী চামড়া কিনেছেন। কোনো কোনো আড়তে ১৮ থেকে ২০ হাজার চামড়া মজুর দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন এবারে আবহাওয়া ভালো থাকায় চামড়া পচার সম্ভাবনা কম ছিলো সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অধিক পরিমাণে চামড়া কিনেছেন।

তবে লবণ সংকটের কারণে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত করতে দুইদিন ধরে কাজ করতে হয়েছে শ্রমিকদের। আর চামড়া নিতে এরইমধ্যে দেশিয় কোম্পানিগুলো ওয়ার্ক অর্ডার দিচ্ছেন বলেও জানান তারা। এবছর চামড়ার ভালো দামের প্রত্যাশা তাদের। সামনের সপ্তাহের শুরুতেই মজুতকৃত চামড়া ঢাকার ট্যানারিতে সরবরাহ করা হবে।

এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম নাটোরের আড়তে আসছে কোরবানির চামড়া। তবে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সংগ্রহ মূল্যের চেয়েও কম দামে চামড়া বিক্রিতে বাধ্য হতে হচ্ছে তাঁদের। তবে আড়তের ব্যবসায়ীদের দাবি, লাম্পিস্কিনে আক্রান্ত, লবণজাত ছাড়া পশুর চামড়া আনায় দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি ছাগলের ভালো চামড়া ২০ থেকে ৪০ টাকা ও গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে কম দামে চামড়া কিনছেন মোকামের ব্যবসায়ীরা। নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ চামড়া মোকাম ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। নাটোরে এবার প্রায় ১২ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নাটোর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা কাঁচা চামড়া কেনাবেচা হলেও দ্বিতীয় দিন শুক্রবার থেকে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু-ছাগলের চামড়া আসে। আকারভেদে লবণযুক্ত ভালো চামড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং লবণ ছাড়া ভালো চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় কেনাবেচা হয়।

চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘লাম্পিসহ ত্রুটিপূর্ণ চামড়ার ব্যাপারে আমরা আগেই ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। যাঁরা ত্রুটিপূর্ণ চামড়া কিনেছেন, তাঁরা দাম পাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। চামড়া কেনার সময় বিষয়টি খেলায় রাখা উচিত ছিল। ভালো চামড়ার উপযুক্ত দাম দিতে কোনো কার্পণ্য নেই। কোরবানির আগে-পরে বাজার যাচাই করা জরুরি।’