ঢাকা | জুন ১, ২০২৬ - ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাঘার চরাঞ্চলে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের আশ্বাস ডিআইজি’র

  • আপডেট: Sunday, May 31, 2026 - 11:04 pm

বাঘা প্রতিনিধি: এক সময় সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে চরবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি অবশেষে বাস্তবায়নের পথে।

রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। গত বুধবার সরেজমিনে বাঘার চরাঞ্চল পরিদর্শন শেষে আগামী এক মাসের মধ্যে সেখানে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের আশ্বাস দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী।

পরিদর্শনকালে তিনি চরের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, চরাঞ্চলে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হলে অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। চরবাসী দীর্ঘদিন ধরে যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন, তা দূর হবে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সক্রিয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলেন, অতীতের বিভিন্ন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে গোলাগুলি, ডাকাতি ও নাশকতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে তিনি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় চরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সঙ্কটের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম চরাঞ্চলে অপরাধীদের তৎপরতায় তারা সবসময় উৎকণ্ঠায় থাকতেন। চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হওয়ায় বাঘার চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এখন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের খবর আসায় স্থানীয় মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, নতুন এই ফাঁড়িটি স্থাপিত হলে সামগ্রিকভাবে এই দুর্গম এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও ব্যাপক উন্নতি হবে। ডিআইজির চরাঞ্চল পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফকরুল হাসান বাবলু, সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস.এম সালাউদ্দীন আহমেদ শামীম সরকার, যুবদল নেতা সালেহ আহমেদ সালাম ও শফিকুল ইসলামসহ দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১১ মে রাজশাহীর বাঘা থানার সীমানা পার হয়ে ১৭৬টি গরু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমানায় চলে যায়। সেখানকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আধিপত্য বিস্তার করে গরুগুলো ফেরত না দিয়ে নিজেদের দখলে নিলে দিশেহারা হয়ে পড়েন প্রকৃত মালিকরা। পরবর্তীতে বাঘা, লালপুর ও দৌলতপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা থেকে গরুগুলো উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করে। এছাড়া, গত ১৮ মে দিবাগত গভীর রাতে এই ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকে কালিদাসখালী গ্রামের সিদ্দিক বেপারীর ছেলে স্বপন বেপারী নিখোঁজ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।