ঢাকা | জুন ১, ২০২৬ - ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাগমারায় মৎস্যচাষ প্রকল্পের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ, ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

  • আপডেট: Sunday, May 31, 2026 - 10:59 pm

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারার নরদাশ ও গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের ‘কোলাবিল মৎস্য চাষ প্রকল্প’-এর সভাপতি, সম্পাদক ও ক্যাশিয়ারসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রকল্পের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অর্থ উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিল সংলগ্ন কোয়ালীপাড়া, চন্ডিপুর, মনোপাড়া ও চাঁইসারা গ্রামের শতশত ভুক্তভোগী কৃষক এবং প্রকল্পের সাধারণ সদস্যরা।

গত শনিবার সন্ধ্যায় মনোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন হাটগাঙ্গোপাড়া-নরদাশ সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন প্রকল্পের ভুক্তভোগী সদস্য চাঁইসারা গ্রামের গ্রাম প্রধান হাসান আলী, কোয়ালীপাড়া গ্রামের গ্রাম প্রধান ইয়াকুব আলী, চন্ডিপুর গ্রামের গ্রাম প্রধান আলা উদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, হাচেন আলী ও আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কোলাবিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি প্রভাষক আলতাব হোসেন, সম্পাদক মাস্টার হোসাইন মোবারক, ক্যাশিয়ার আসাদুল ইসলাম ও সদস্য নুরুল ইসলাম বিভিন্নভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রকল্পের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক ডাকা হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত না হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। উল্টো, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত না দেয়ার উদ্দেশে তারা নানা ষড়যন্ত্র করছেন এবং ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মিথ্যা অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে হয়রানি করছেন।

এদিকে অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার আসাদুল ইসলাম নিজের নামে প্রকল্পের ৪৯ লাখ ৭২ টাকা খরচের কথা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে কিছু টাকা মাফ চেয়ে ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমি বিষয়টি নিষ্পত্তি করে নিয়েছি। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ দুই লাখ টাকা জমা দিয়েছি।

বাকি ৪৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য আগামী ৭ দিনের সময় নিয়ে তাদের জিম্মায় আমার স্বাক্ষরিত দুটি ব্যাংক চেক এবং ৬০০ টাকা মূল্যমানের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প জমা রেখেছি। ওই সালিশ বৈঠকে হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রবিউল ইসলামসহ প্রায় ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান। হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রবিউল ইসলামও সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।