বানেশ্বর পশুর হাটে নজর কেড়েছে বিপরীত আকৃতির দুই গরু
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর পশুর হাট জুড়ে অসংখ্য কোরবানির পশু। বিভিন্ন রঙ ও আকারের গরুর ভিড়ের মাঝে সবার নজর কেড়েছে দুটি গরু। একটির দেহ বিশাল আর অন্যটির ছোটখাটো গঠন। বিপরীত আকৃতির এই দুই গরুকে ঘিরে হাটজুড়ে চলে আলোচনা।
শনিবার দুপুরে পশুর হাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত গরু দুটির একটিও বিক্রি হয়নি। সাদা-কালো রঙের বিশাল আকৃতির ফিজিয়াম জাতের গরুটি নিয়ে এসেছেন জেলার দুর্গাপুর উপজেলার হাট কানপাড়া এলাকার আবদুর শরিফুল। প্রায় ১৩ মণের এই গরুটি দেখতে হাটে আসা মানুষজন ভিড় করছেন। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আবার গরুটির খাবার ও পরিচর্যার গল্প শুনছেন মালিকের মুখে। গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা।
আবদুর শরিফুল বলেন, গরুটি আমারও কেনা। তাই তার নাম জানে নেই। হাটের সবচেয়ে বড় গরু এটি। দুইজন দাম বলেছে। তেমন কেউ দাম করার সাহস করছে না। বড় গরুর একই একটা মজা। দেখি এখানে বিক্রি না হলে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। তবে চাইবো রাজশাহীর হাটগুলোতেই বিক্রি করা। এখানে বিক্রি না হলে আজ রোববার সিটি হাটে নিয়ে যাব।
অন্যদিকে, তার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা ছোট আকৃতির কালো ভুট্টি জাতের গরুটিও কম আকর্ষণের নয়। নাটোরের তেবাড়িয়া এলাকার বদিউজ্জামান ছোট এই গরুটি নিয়ে এসেছেন হাটে। আকারে ছোট হলেও গরুটিকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ ছিলো না হাটে আসা মানুষের। অনেকেই বড় গরুর পাশে দাঁড়ানো ছোট গরুটিকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। ছোট গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। হাটে আসা রজব আলী, সোহেল আলী বলছেন, একই স্থানে সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট গরুকে পাশাপাশি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বানশ্বর হাটে যেন অন্যরকম উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
ছোট গরুর মালিক নাটোরের তেবাড়িয়া এলাকার বদিউজ্জামান বলেন, বাড়িতে আরও গরু রয়েছে। ভুট্টি জাতের গরুটা রংপুরের একটি হাট থেকে কিনে নিয়ে এসেছিলাম। তার পরে বাড়িতে লালনপালন করা হয়েছে। এই ধরনের গরুর চাহিদা ঢাকায় বেশি। বদিউজ্জামান বলেন, তার শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ার কারণে তিনি বিভিন্ন হাটে গরু তুলছেন। এসব হাটে গরু বিক্রি না হলে বিকল্প ঢাকায় নিয়ে যাতে হবে। বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটে এবার মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি হলেও ব্যতিক্রমী আকারের গরুগুলোই মানুষের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই বানশ্বর হাটের এই দুই গরু এখন সবার আলোচনায়।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে ৮০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দামের গরুগুলো বেশি কেনাবেচা হচ্ছে। তবে, হাটের গরু বিক্রির খাজনা নিয়ে অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাটটিতে গরু কিনলে ৮০০ টাকা। আর বিক্রি করলে ২০০ টাকা খাজনা দিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে হাট কর্তৃপক্ষের লোকজন কোনো মন্তব্য করেননি। তারা বলছেন- কাটাখালি পশু হাটেও গরুর খাজনা ১ হাজার টাকা। তবে কাটাখালি হাটে খোঁজ নিয়ে মিলেছে সত্যতা। বানেশ্বর হাটে আশেপাশের জেলা থেকে গরু কেনাবেচার জন্য নিয়ে এসেছেন অনেকেই। হাটে জাল নোট শনাক্তের মেশিন আনা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন।
ক্রেতা-বিক্রতারা জানায়, তুলানামূলক বিকেলের দিকে কেনাকাটা জমেছে। হাট কর্তৃপক্ষ বলছে, হাটে পর্যাপ্ত বিভিন্ন দামের গরু রয়েছে। ক্রেতা বিক্রেতারা দামাদামি করে গরু কিনছেন। হাটের পরিবেশ অনেক ভালো। আসা করা হচ্ছে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে কেনাকাটা। তার পরেও ক্রেতা বিক্রেতা থাকলে আমরা থাকব।











