ঢাকা | মে ৪, ২০২৬ - ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

শিক্ষা কার্যক্রম লাটে: পুঠিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চরম অব্যবস্থাপনা

  • আপডেট: Sunday, May 3, 2026 - 10:10 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘পুঠিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকদের লাগামহীন অনুপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষ বর্জন এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক হতাশাজনক চিত্র। মাধ্যমিক শাখার হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও কলেজ শাখা ছিল সম্পূর্ণ শিক্ষকশূন্য। এমনকি প্রশাসনিক তদারকির দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ গোলাম ফারুককেও তার দপ্তরে পাওয়া যায়নি। অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা লক্ষ্যহীনভাবে স্কুল প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তদারকি ও শাসনের অভাবে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা এখন কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ। স্থানীয়রা এই পরিস্থিতিকে ‘অরাজক অবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার নেপথ্যে বাংলা বিভাগের নিবন্ধনহীন প্রভাষক ইসমাইল হোসেনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর হওয়ার সুবাদে ইসমাইল হোসেন ও তার অনুসারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। ইসমাইল একজন নিবন্ধনহীন শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষকরা যদি প্রতিষ্ঠানেই না আসেন, তবে আমাদের সন্তানরা কী শিখবে? স্কুলের ভেতর রাজনীতির চর্চা চললে শিক্ষার কোনো মান থাকে না। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।” তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উপজেলার মধ্যে সেরা। অভিযুক্ত শিক্ষক ইসমাইলের ব্যাপারে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইসমাইল সাবেক কাউন্সিলর হওয়ায় নিজেকে অনেক প্রভাবশালী মনে করেন এবং মাঝেমধ্যে অপেশাদার আচরণ করেন। তার কর্মকাণ্ডে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারও অসন্তুষ্ট।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক ইসমাইল হোসেন তার অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে সন্তানের অসুস্থতাকে দায়ী করেছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর আমি আর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই।” এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান জানান, ইতিপূর্বে তাদের সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসেনি। পুনরায় একই ভুলের জন্য এবার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানিয়েছেন, শিক্ষা অফিসারের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত এই বিষয়ে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।