ঢাকা | মে ৪, ২০২৬ - ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

থামছেই না লোকসান: অস্তিত্ব সঙ্কটে নর্থ বেঙ্গল ও নাটোর সুগার মিল

  • আপডেট: Sunday, May 3, 2026 - 10:28 pm

স্টাফ রিপোর্টার: আখের তীব্র সঙ্কট আর ক্রমাগত উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির যাঁতাকলে পড়ে অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে নাটোরের নর্থ বেঙ্গল ও নাটোর সুগার মিল। রাষ্ট্রায়ত্ত এই দুই চিনিকল এখন শতকোটি টাকার লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। আবাদি জমি কমে যাওয়া আর কৃষকদের বিমুখতায় আগামী দিনগুলোতে চিনি উৎপাদনের চাকা সচল রাখা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গেল মাড়াই মৌসুমে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, নাটোর সুগার মিল ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন মাড়াইয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা ৯৫ হাজার টনের ঘরেই থমকে যায়। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় আয় কমে যাওয়ায় মিল দুটির আর্থিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে।

মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় জমিতে ফসল আটকে থাকা এবং সঠিক সময়ে পাওনা টাকা না পাওয়াকেই কৃষকরা আবাদ কমার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় চাষি মক্তিমুদ্দিনের মতে, বাইরে আখের ভালো দাম পাওয়া গেলেও মিলে সরবরাহ করে কাক্সিক্ষত লাভ মিলছে না। এছাড়া রমজান আলী নামে এক চাষি জানান, আখের চেয়ে অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি ফসল অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা চাষ পরিবর্তন করছেন। কৃষিবিদ ইব্রাহিম খলিল মনে করেন, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম আর উন্নত জাতের বীজের অভাব চাষিদের এই অনাগ্রহের পেছনে বড় দায়ী।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আগের ঋণের কিস্তি আর সুদের বোঝা বইতে গিয়েই মিলটি লাভের মুখ দেখছে না। এছাড়া পার্শ্ববর্তী চিনিকলগুলো তাদের এলাকা থেকে আখ কিনে নেয়ায় সরবরাহ সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। তবে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার আশা ব্যক্ত করেন তিনি। অন্যদিকে, নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমান জানান, উঁচু জমিতে লাভজনক ফসলের ভিড়ে আখের আবাদ নিচু জমিতে ঠেকেছে, যেখানে উৎপাদন ও চিনি- দুটোই কম পাওয়া যায়। যদিও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধা দিয়ে চাষ ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লোকসানের ধারা বন্ধ করতে হলে চিনিকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, আখের আবাদ আরও সংকুচিত হবে এবং এই ঐতিহাসিক শিল্প দুটি অদূর ভবিষ্যতে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।