ঢাকা | নভেম্বর ৭, ২০২৬ - ১১:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শহিদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

  • আপডেট: Saturday, November 7, 2026 - 10:23 pm

স্টাফ রিপোর্টার: ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রাজশাহীতে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এ দিবসের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব ও অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান চিরস্মরণীয়। তাঁদের এই অনন্য আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ সময় তিনি দেশপ্রেম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জাতীয় ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রেজাউল আলম সরকার, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক ও কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খোকন, মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ, জেলা কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম সামাদ সহ শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের অপরিসীম অবদান ও মহান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আসল তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা ও কল্যাণে জেলা প্রশাসন সর্বদাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।”

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদান, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় তাঁদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।