ঢাকা | অক্টোবর ১৯, ২০২৬ - ১:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে আমির হামজার মাহফিলের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন

  • আপডেট: Sunday, October 18, 2026 - 11:29 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিলের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে ১৯ অক্টোবর সোমবার বিকাল থেকে এই তাফসির মাহফিল শুরুর কথা ছিল।

রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক।

তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে মাহফিল বন্ধের মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে আমরা অতিথিদের ফোন করে না আসার জন্য অনুরোধ করেছি। এদিকে আয়োজকরা গত কয়েকদিন ধরে আশপাশেসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজ হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আমির হামজার এই মাহফিল হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানব কল্যাণ পরিষদ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয় গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে। রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে এই তাফসির মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের।

এছাড়া স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি করা হয়। মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে ব্যানার পোস্টারে নাম আসে মুফতি আমির হামজা এমপির। তিনি গোদাগাড়ীর মাহফিলে উপস্থিত থাকতে সম্মতিও দিয়েছিলেন।

আয়োজকরা জানান, প্রশাসনের অনুমতির জন্য গত ১৩ অক্টোবর তারা গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ওসি বরাবর আবেদন করা হয়। সেই আলোকে শনিবার সকালে আয়োজকরা অনুমতি নিতে ইউএনওর কাছে যান। কিন্তু পুলিশের প্রতিবেদন না আসায় অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ইউএনও। তিনি আয়োজকদের জানিয়ে দেন, পুলিশি প্রতিবেদন ছাড়া অনুমতি দিতে পারবে না উপজেলা প্রশাসন।

আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক রোববার দুপুরে বলেন, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি আমাদের জানান, মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদন না এলে তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ধরেই নিয়েছি আমাদের মাহফিলের অনুমতি দিবে না প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত অতিথিদের আমরা ফোন করে ক্ষমা চেয়েছি। প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলেছি।

এই বিষয়ে ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এই ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম নেই; যেখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। আমরা পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য লিখেছি। প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে মুফতি আমির হামজা এমপির তাফসির মাহফিলের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ রোববার দুপুরে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। যদি উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।