ঢাকা | অক্টোবর ১৬, ২০২৬ - ১১:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রেশম কারখানার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

  • আপডেট: Friday, October 16, 2026 - 9:38 pm

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে রাজশাহী রেশম কারখানা ও রেশম বোর্ডের হারানো ঐতিহ্য যেকোনো মূল্যে ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

তিনি বলেন, রেশম কারখানার উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন পাওয়ার লুম চালু করছে। এখন দরকার সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করা।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড চত্বরে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ তুঁত চারা রোপণ এবং রেশম কারখানার ১৫টি পাওয়ার লুম চালুকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী জানান, রেশম কারখানার উৎপাদন ও গতি বাড়াতে আজ ১৫টি পাওয়ার লুম চালু করা হলো এবং আগামী দিনে আরও ২৫টি লুম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। রেশমের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ কিংবা তারও পূর্বে সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির একটি বড় অংশ বেঙ্গলের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যার মূল ভিত্তি ছিল ঐতিহ্যবাহী মসলিন ও রেশম শিল্প। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও অভ্যন্তরীণ ভুলের কারণে রাজশাহী রেশম কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিকর কোন্দল পরিহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে রিজিকের প্রধান উৎস হিসেবে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্য কর্মীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তা ও সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে একটি পরিবারের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। সরকারের বিশেষ উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ প্রচেষ্টায় রাজশাহী সিল্কের বিশ্বজোড়া সুনাম ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সবার সম্মিলিত ত্যাগ ও নিষ্ঠা ভবিষ্যতের বংশধরদের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ, বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা এবং রেশম পণ্য ব্যবসায়ী আসলাম সরকার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।