ঢাকা | অক্টোবর ১৬, ২০২৬ - ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পদ্মায় ন্যায্য পানি দিয়ে ভারত বন্ধুত্বের পরিচয় দেবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

  • আপডেট: Thursday, October 15, 2026 - 10:23 pm

স্টাফ রিপোর্টার: হিস্যা অনুযায়ী পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভারত প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের কমপক্ষে ৩০ হাজার কিউসেকের বেশি পানি পাওয়া উচিত। অথচ অতীতে কোনো কোনো মাসে পানির প্রবাহ ৫ হাজার কিউসেকেও নেমে এসেছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া মহল্লায় পদ্মা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তাঁরা এখন ১২ ডিসেম্বরকে লক্ষ্য ধরে কাজ করছেন।

শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দুই দেশের কারিগরি দলের সদস্যরা প্রতিদিন পানির প্রবাহ পরিমাপ করছেন জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আশা প্রকাশ করেন, ভারত অতীতের চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত জুনে কলকাতায় এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং এসব বৈঠকে আগামী দিনের ফারাক্কা চুক্তিতে পানির প্রবাহের নিশ্চয়তা নিয়ে জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে। হাইকমিশনার তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশের বার্তা নিয়ে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন।

বাংলাদেশ ফিরে এলে তাঁর কাছ থেকে অগ্রগতি জানার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। বিগত দিনে পদ্মার পানি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন ভূমিকা বাংলাদেশের মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত বন্ধুসুলভ মনোভাব নিয়ে চুক্তি নবায়ন করে এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেবে।

নদী পরিদর্শন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা:

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। সকালে তিনি বারনই নদী পরিদর্শন করেন এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও দূষণ প্রতিরোধে কড়া পদক্ষেপের কথা জানান।

তিনি বলেন, রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্ত করা হবে। নদী খনন প্রকল্প ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। একাধিক প্যাকেজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়ে কাজ চলমান রয়েছে এবং বাকিগুলোর প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য বা দূষিত পানি পড়ে নদী যেন দূষিত না হয় এবং তা পদ্মার পরিবেশের ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দূষিত পানির কারণে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি (হাত-পায়ে ঘা হওয়া) রোধে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ইটিপি স্থাপন করা হবে। বারনই নদীর পর প্রতিমন্ত্রী গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় পদ্মা নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর তিনি রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ ও টি-বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন।

রাজশাহীর সার্বিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধটি কেবল বাঁধ হিসেবেই থাকবে না; বরং এটিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সিঙ্গাপুর ও নেদারল্যান্ডসের আদলে এখানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিনোদনমূলক সুবিধা সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পরিদর্শন শেষে রাজশাহীর সার্বিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও শহর রক্ষা বাঁধ সংক্রান্ত উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস