ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ - ৪:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীর বাজারে সবজি-মাছ ও মাংসের দাম চড়া

  • আপডেট: Sunday, September 27, 2026 - 4:03 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাজারে শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচসহ একাধিক সবজির দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি মাছ, মাংস ও ডিমের চড়া ভাব অব্যাহত থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

গতকাল শনিবার সকালে নগরীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র সাহেববাজারসহ আশপাশের কয়েকটি কাঁচাবাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে। দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০-১৭০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২৫ টাকা এবং আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি হালি কাঁচকলা ৩০ টাকা, ওল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৪০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে গাজর ১৪০ টাকা ও টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে আদা ১৮০ টাকা, নাটোরের রসুন ৮০ টাকা এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের দরের কাছাকাছি রয়েছে। আমিষের বাজারে ডিমের দাম এখনও চড়া। প্রতি হালি দেশি মুরগির ডিম ৭৫-৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০ টাকা, ফার্মের লাল ডিম ৪৮-৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ৪৪-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকা, সোনালি ২৭০-২৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা, ফাউমি ৩৩০ টাকা এবং হাঁস ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও নেই স্বস্তির খবর। কেজিপ্রতি রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০-২১০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২২০ টাকা, চাষের শিং ৩০০-৩৫০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০-৯০০ টাকা ও কোরাল ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি কৈ ৮০০-১০০০ টাকা এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে গাড়ি পার্কিং খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি রাজশাহীতে বন্যার কারণে বহু সবজি নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বাজারে সবজির দামে এই প্রভাব পড়েছে।

সাহেববাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। বিশেষ করে বেগুন, শসা ও কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারেই আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ডিম ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও ডিম চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে এলাকাভেদে দাম সামান্য কম-বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে মাছ ব্যবসায়ী রায়হান কবির বলেন, নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। তাছাড়া পরিবহন খরচ ও মাছের খাবারের দাম বাড়ায় চাষের মাছও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। বাজার করতে আসা গৃহিণী কামরুন্নাহার স্মৃতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে যে সবজি ৩০-৪০ টাকার মধ্যে পেতাম, এখন তা ৫০-৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মাছ আর ডিমের দামও কমছে না, ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

নগরীর একটি মেসে থাকা শিক্ষার্থী তানভীর হাসান জানান, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সবজির দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা বাজেট সামলাতে চাপে পড়েছেন। সব মিলিয়ে প্রধান কয়েকটি সবজির দাম বাড়লেও অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মাছ, মুরগি ও ডিমের ধারাবাহিক চড়া দামে সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ অব্যাহত রয়েছে।