ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ - ১১:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মৌসুমের সর্বোচ্চ ভারী বৃষ্টিপাত: হাসপাতালসহ নগরজুড়ে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ

  • আপডেট: Wednesday, September 2, 2026 - 10:17 pm

স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা বর্ষণে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এতে একদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ও নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে খরায় পুড়তে থাকা আমন ধান ও খেতের সবজির জন্য এই বৃষ্টি বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, রাতভর পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই টানা বর্ষণে ৯৭ মিলিমিটার (অন্যান্য পরিমাপে ৯৯.৪ মিলিমিটার) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজশাহীতেও আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে জরুরি বিভাগের মূল ফটক থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা দূর-দূরান্তের রোগী ও তাঁদের স্বজনদের পানির মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার জন্য দ্রুত স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রয়োজন।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীম সাংবাদিকদের জানান, গেটের সামনের মূল রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় হাসপাতালের ভেতরের পানি নামতে বাধা পাচ্ছে। ফলে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সিটি করপোরেশনকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে নগরীর নিচু এলাকাগুলো পানিতে থৈ থৈ করছে। উপশহর নিউ মার্কেট এলাকা, স্যাটেলাইট টাউন স্কুলের সামনের সড়ক, পশ্চিমাঞ্চলের আদালত চত্বরসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা, তেরাখাদিয়া স্টেডিয়ামের পূর্ব সড়ক, লক্ষ্মীপুর মোড়, বর্ণালী মোড় ও সিঅ্যান্ডবি মোড়সহ প্রধান প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। বেশ কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে দুর্ভোগ তৈরি করেছে। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, সড়ক ঢেকে যাওয়ায় এবং ড্রেন উপচে নোংরা পানি একাকার হওয়ায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এ ছাড়া রাস্তায় খানাখন্দ ও গ্যাসের লাইনের গর্ত না দেখতে পাওয়ায় রিকশাসহ যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। অবশ্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মামুন ডলার জানান, শহরের বড় ড্রেনগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছিল। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে নেমে কাজ করছেন এবং দ্রুতই পানি নেমে যাবে।

কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি:

নগরবাসীর জন্য এই বৃষ্টি দুর্ভোগ ডেকে আনলেও রাজশাহীর প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বেশ কিছুদিনের তীব্র খরার কারণে আমন খেতে পানির সংকট দেখা দিয়েছিল। ঠিক ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের এই সংকটপূর্ণ সময়ে অঝোর ধারার বৃষ্টি কৃত্রিম সেচের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত আমন ধানের বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। পাশাপাশি পবার দামকুড়ার মতো বিভিন্ন অঞ্চলের আগাম সবজি ও কপি চাষিদের ক্ষেত্রেও সেচ খরচ কমে গিয়ে ফলনের আশা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

সোনালী /জগদীশ রবিদাস