ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ - ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রামেক হাসপাতালে তিনগুণ ডেঙ্গু রোগী: ঠাঁই মিলছে বারান্দা-মেঝেতেই

  • আপডেট: Wednesday, September 2, 2026 - 10:19 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে কমেছে হাম সন্দেহে ভর্তি রোগীর চাপ। তবে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহের তুলনায় শেষের সপ্তাহে রোগী দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ। ফলে শয্যা না পেয়ে রোগী ও স্বজনদের বারান্দা, মেঝে এবং দুই বেডের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় মশারি টাঙিয়ে মানবেতর পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে মোট ২৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৮৫ জন এবং ১৬ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ভর্তি হন ১৫১ জন। গত আগস্টেই ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ আগস্ট ও ৩১ আগস্ট দুজন হাসপাতালে মারা যান। এ নিয়ে চলতি বছরে রামেক হাসপাতালে মোট ৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলো। গত মাসে ১৯৩ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে গঠিত ডেঙ্গু আইসোলেশনে ৪৭ জন চিকিৎসাধীন।

দেখা যায়, ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আইসোলেশনে মাত্র ১৬টি বেড রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত রোগীরা বারান্দা ও মেঝেতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালে ৩০ (এ) নম্বর ওয়ার্ডকে নতুন করে ডেঙ্গু আইসোলেশনে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে ডেঙ্গু বেডের সংখ্যা বেড়ে ৩৬টিতে উন্নীত হবে।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীরা চিকিৎসার মান ও সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংক্রামিত হওয়ার ভয়ে ডাক্তার ও নার্সদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।

আলমগীর হোসেন নামের এক রোগী জানান, পর্যাপ্ত সিট না থাকা ও গাদাগাদি পরিবেশের কারণে অসুস্থতা আরও বাড়ছে। প্রয়োজনীয় কিছু সাধারণ ওষুধ হাসপাতাল থেকে মিললেও বড় অংশই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহে মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা থেকে এসে ভর্তি হওয়া ইউসুফ আলী (৭৫) নামের এক রোগী গত সোমবার ছাড়পত্র পেয়ে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন এবং গত মঙ্গলবার সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।

সামগ্রিক বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া মাত্রই রোগীদের আইসোলেশনে নেয়া হচ্ছে। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে আসন সংকট থাকায় ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অংশকে আইসোলেশন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা চালু হলে বেড সংকট দ্রুত কেটে যাবে। রোগীদের আন্তরিকভাবে সেবা দিতে চিকিৎসা দল কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

হাম ইউনিটে কমছে রোগীর চাপ:

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও হাম সন্দেহে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত আগস্টে হাম সন্দেহে ৮৯ জন ভর্তি হন, যার মধ্যে গত ১১ আগস্ট একজনের মৃত্যু হয়েছে। ৭৯ জন ছাড়পত্র পাওয়ায় বর্তমানে হাম ইউনিটে ২৮ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। দেখা যায়, হাম ইউনিটের অধিকাংশ বেড এখন ফাঁকা।

কুষ্টিয়া থেকে আসা ৮ মাস বয়সী শিশু মোস্তাকিম বিল্লাহর দাদা কলিম উদ্দীন জানান, রামেকের চিকিৎসায় শিশুর অবস্থার উন্নতি হলেও কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। তবে নার্সদের দক্ষতার ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শিশুদের শরীরে ক্যানোলা পরাতে গিয়ে একাধিকবার সুচ ফোটানোয় রোগীদের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

সোনালী/ জগদীশ রবিদাস