ঢাকা | অগাস্ট ১০, ২০২৬ - ১১:৪২ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে ছেলের সঙ্গে জিপিএ-৫ পেলেন মা

  • আপডেট: Monday, August 10, 2026 - 10:51 pm

স্টাফ রিপোর্টার: ছেলে পড়েছে, মা-ও পড়েছেন। সংসারের দায়িত্ব সামলে বই-খাতা নিয়ে রাত জেগে চালিয়েছেন পড়াশোনা। অবশেষে ফল প্রকাশের দিন এলো সেই কাক্সিক্ষত মুহূর্ত-মা পেয়েছেন জিপিএ-৫ আর ছেলে পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫।

সোমবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার বসিলা এলাকায় তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অনন্য এই ফলাফলের পর স্বজন ও পরিচিতজনেরা এসে মা-ছেলেকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া বেগমের স্বামী তোফাজ্জল হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। স্বামী-সংসার ও সন্তান লালন-পালনসহ নানা দায়িত্বের মধ্যেও নিজের বন্ধ হয়ে যাওয়া পড়াশোনার স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেননি সাদিয়া। ১৯ বছর আগে বিয়ের পর দীর্ঘ ১৭ বছর পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি। তবে শিক্ষার প্রতি সেই অদম্য টান থেকেই আবার বই হাতে তুলে নেন। বছর দুয়েক আগে সিদ্ধান্ত নেন ছেলের সঙ্গেই দেবেন এসএসসি পরীক্ষা। পরিবারের সম্মতিতে শুরু হয় দীর্ঘ প্রস্তুতি।

চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সেই পরিশ্রমের সুফল পেয়েছেন সাদিয়া বেগম। রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে তিনি পেয়েছেন জিপিএ-৫। অন্যদিকে, তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫।

নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সাদিয়া বেগম বলেন, বিয়ের পর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পড়তে পারিনি, তবে হাল ছাড়িনি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো সংসার সামলে ও দুই ছেলের খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি নিজে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছি, আর ছেলেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমাদের সাফল্যে পুরো পরিবার আনন্দিত।

মায়ের সঙ্গে একই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়াকে জীবনের অন্যরকম অনুভূতি হিসেবে দেখছে তানভীর আহমেদ। সে বলে, ‘মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেয়ার সৌভাগ্য কজনের হয়? মা আমার পড়ালেখার খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি নিজেও পড়তেন। রাতে আমার পাশে বসে থেকেছেন। আমার এই অর্জন বাবা-মাকে উৎসর্গ করছি। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা আছে, তাই সবার দোয়া চাই।’

মা-ছেলের এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তাদের গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামও। তিনি জানান, চার বছর ধরে তানভীরকে পড়ানোর পাশাপাশি তার মাকেও প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেছেন। এমন বিরল ও সুন্দর ঘটনার অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।