১০০ শয্যা বাড়ছে রামেক হাসপাতালে, চালুর অনুমতি পেল কাক্সিক্ষত আইসিইউ
এক যুগের অপেক্ষা শেষ:
স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শয্যা বৃদ্ধির প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসালয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। গত সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এই ঐতিহাসিক অনুমোদন প্রদান করেছে। এর ফলে হাসপাতালটির মোট শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩০০-তে উন্নীত হচ্ছে। একই সাথে হাসপাতালের বর্ধিত এই শয্যাগুলোকে কাজে লাগিয়ে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যে সেবা কার্যক্রম চালুর পথও সুগম হলো।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যাবতীয় বিধি-বিধান ও নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে প্রতিপালনের শর্তে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং বর্ধিত শয্যায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালুকরণের প্রশাসনিক অনুমোদন নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো। এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে হাসপাতালটিতে শয্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০টি করা হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালটিতে রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকার রোগীরা প্রতিনিয়ত চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তবে তিন বিভাগের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের এই প্রধান ভরসাস্থলে এতদিন সরকারের অনুমোদিত কোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ ছিল না। কেবল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা পর্ষদের বিশেষ অনুমোদনে সেখানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে আইসিইউ সেবা চালু রাখা হয়েছিল। এই ইউনিটের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, যিনি একটি অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ আইসিইউর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
জানা গেছে, হাসপাতালটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে আইসিইউর ৪৬টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা এখন থেকে সরকারের অনুমোদিত আইসিইউ শয্যা হিসেবেই গণ্য হবে। এই বিদ্যমান শয্যাগুলোর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২টি, প্রবীণ বা বয়স্ক রোগীদের জন্য ১৬টি, শিশুদের জন্য ১২টি এবং জটিল অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা রোগীদের জন্য ৬টি শয্যা সংরক্ষিত রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে আরও ৫৪টি বিশেষায়িত শয্যা চালু করা হবে, যার মধ্যে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের জন্য ১৫টি, নবজাতক শিশুদের জন্য ১০টি, ক্যানসার বা অন্যান্য জটিল রোগীদের জন্য ১০টি এবং ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) রোগীদের জন্য ১৯টি শয্যা সংরক্ষিত থাকবে। সব মিলিয়ে নতুন ও পুরোনো শয্যার সমন্বয়ে এখানে মোট ১০০ শয্যার এক বিশাল আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের এই কাঙ্ক্ষিত অনুমোদনের পর ফেসবুকে দেয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ১৫ বছরের প্রচেষ্টা। ২০১১ সাল থেকে সকল প্রকার চেষ্টা-তদবির করেও পারিনি। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যেই সফলতা এল।’ পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, অবশেষে হাসপাতালটি সরকারিভাবে অনুমোদিত আইসিইউ পেয়েছে। এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন থাকার কারণে আইসিইউর রোগীদের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ পাওয়া যাবে, যার ফলে সাধারণ রোগীরা আরও উন্নত সেবা পাবেন। এই অনুমোদন পাওয়ার পেছনে সাংবাদিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালের এই সমস্যাগুলো নিয়মিত গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন বলেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।











