সরকারি স্কুল মাঠ ভরাট করে দখলের অভিযোগ, দুর্গাপুরে ক্ষোভ
দুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুরের গৌরিহার গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজের মাঠ অবৈধভাবে ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইদ্রিস আলী উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া গৌরিহার মহিলা টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ। গত ১০-১২ দিন ধরে প্রকাশ্যে মাঠটি ভরাট করা হলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এদিকে মাঠ ভরাট হওয়ায় এলাকার যুবক ও শিশুদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে, যা নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে এই স্থানে গৌরিহার প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করা হয়। সে সময় ওই গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী ও তার চাচাতো ভাই রায়হান ইসলামসহ কয়েকজন জমির মালিক সরকারের নামে ৩৩ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। নানা সংকটের কারণে ২০০৭ সালে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর একই বছর ওই স্থানে আরও ৩৩ শতাংশ জমি বাড়িয়ে মোট ৬৬ শতাংশ জায়গায় ‘গৌরিহার মহিলা টেকনিক্যাল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন ইদ্রিস আলী এবং তিনি নিজেই এর অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। কয়েক বছর চলার পর কলেজটির কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সরকারের নামে রেজিস্ট্রি হওয়া এই মাঠটি স্থানীয়রা খেলার মাঠ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। প্রতিদিন বিকেলে প্রায় ৩০-৪০ জন কিশোর, যুবক ও শিশু এই মাঠে খেলাধুলা করত।
অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল ও কলেজের পাশে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছেন আবু তালেব নামের এক ব্যক্তি। সেই পুকুর থেকে তোলা মাটি দিয়েই সরকারি এই মাঠটি ভরাট করছেন ইদ্রিস ও রায়হান। মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, স্কুল ও কলেজ খোলার সময় জমি সরকারের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রায় ২৩ বছর ধরে এটি সরকারি খেলার মাঠ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে মাঠটি ভরাট করে দখলে নেয়া হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সরকারি মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাঠ ভরাটকারী ও সাবেক কলেজ অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় করার সময় আমরা ৩৩ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলাম। কিন্তু নানা কারণে স্কুল ও কলেজ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। মাঠটি বর্তমানে সরকারি খতিয়ানভুক্ত বা রেজিস্ট্রি করা তা স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, জমি দেওয়ার সময় শর্ত ছিল যে, কোনো কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে দাতা জমি ফেরত পাবেন। তাই আমরা এটি দখলে নিচ্ছি। সরকারের কাছে জমি ফেরত চেয়ে কোনো আইনি আবেদন বা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোনো আবেদন করিনি, তবে শর্ত অনুযায়ী জমিটি আমাদের পাওয়ার কথা। এ সময় তিনি এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য এই প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান।
দুর্গাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে বর্তমানে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে জমিটি যদি সরকারের নামে রেজিস্ট্রি বা দলিল করে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই সরকারি সম্পত্তি। দলিল না দেখে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়, তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা বলেন, এই সংক্রান্ত একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মাঠটির বর্তমান অবস্থা জেনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।











