ঢাকা | জুন ২৪, ২০২৬ - ২:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বরেন্দ্রর রুক্ষ মাটিতে মিষ্টি আঙুর: বাণিজ্যিকভাবে চাষের নতুন সম্ভাবনা

  • আপডেট: Tuesday, June 23, 2026 - 11:10 pm

জামিল আহমেদ, গোদাগাড়ী থেকে: রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ সামগ্রিক বরেন্দ্র অঞ্চলের রুক্ষ ও লাল মাটিতে এবার বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের এক বিশাল সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং সঠিক জাত নির্বাচন করে সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে আঙুরের চমৎকার ফলন পাওয়া সম্ভব। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষেই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় মোট ১ বিঘা ২ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করা হয়েছে। প্রথমবারেই ফলন ও দাম দেখে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় চাষিদের। দেওপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরীপুর গ্রামের উদ্যমী কৃষক মনিরুজ্জামান মনির পরীক্ষামূলকভাবে এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, রুক্ষ মাটিতে আঙুরের এমন ফলন হবে ভাবিনি। বাজারে ভালো সাড়া পাচ্ছি, যা আমাকে আগামীতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

গোদাগাড়ী পৌর এলাকার আলীপুরের কৃষক সাব্বির হোসেন তাঁর বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা মাত্র ২ কাঠা ফাঁকা জমিতে আঙুর চাষ করে বাজিমাত করেছেন। সাব্বির হোসেন জানান, তাঁর বাগানের উৎপাদিত আঙুর বাজারে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই অভাবনীয় লাভ দেখে তিনি ইতিমধ্যেই আগামী মৌসুমের জন্য আরও তিন বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদ্দেশ্যে চারা রোপণ সম্পন্ন করেছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি পরীক্ষামূলক আঙুর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রথমবারের এই যুগান্তকারী সাফল্য পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলে আগামীতে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক আঙুর চাষের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কৃষি বিভাগ থেকে আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।