ঢাকা | জুন ১৮, ২০২৬ - ২:০৫ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে চিকিৎসক মায়ের বিরুদ্ধে পালিত কন্যার মামলা, তদন্তে পিবিআই

  • আপডেট: Wednesday, June 17, 2026 - 11:20 pm

স্টাফ রিপোর্টার: জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি করে পরিচয় পরিবর্তন এবং এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে এবার আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন ক্লাউডিয়া চৌধুরী নামের এক তরুণী।

বুধবার রাজশাহীর বিজ্ঞ আদালতে তিনি নিজেই বাদী হয়ে চিকিৎসক ডা. শিপ্রা চৌধুরী এবং তাঁর সহযোগী মো. নাজমুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতারণা, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধভাবে পরিচয় পরিবর্তন ও জোরপূর্বক হলফনামা করানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হযরত আলী জানান, শৈশবে অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্লাউডিয়াকে নিয়ে এসে প্রচলিত আইন বা সামাজিক অনুমোদন ছাড়াই নিজের সন্তান পরিচয়ে লালন-পালন করেন ডা. শিপ্রা চৌধুরী।

দীর্ঘ ১৯ বছর জন্মনিবন্ধন, স্কুলের নথিপত্র ও এসএসসি সনদে ডা. ওবায়দুল রহমান চৌধুরী ও ডা. শিপ্রা চৌধুরীকে বাবা-মা উল্লেখ করা হলেও, ২০২৩ সালে ভুক্তভোগীর অগোচরে জন্মনিবন্ধনে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করে মো. বাবুল ও মোসা. টগরী বেগমের নাম যুক্ত করা হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৩ সালের জুন মাসে ক্লাউডিয়াকে জোরপূর্বক আদালতে নিয়ে একটি হলফনামায় স্বাক্ষর করিয়ে জানানো হয় তিনি পালিত সন্তান। এরপর নির্যাতন করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয় এবং পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আটকে রাখা হয়। পরিচয় সংকটের কারণে ভুক্তভোগীর এনআইডি তৈরি, কলেজে ভর্তি ব্যাহত হওয়াসহ শিক্ষাজীবনের একটি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইনজীবী আরও জানান, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাবোর্ডের নথি ও পাসপোর্ট সংশোধন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বর্তমানে পরিচয়হীনতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সম্প্রতি ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ক্লাউডিয়ার বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি লাইনটি কেটে দেন।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস