ঢাকা | জুন ২, ২০২৬ - ১১:৩৭ অপরাহ্ন

ঐতিহ্যবাহী কানসাট বাজারে আমের দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা

  • আপডেট: Tuesday, June 2, 2026 - 10:15 pm

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কানসাট আম বাজারে জমে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত, লক্ষ্মণভোগ, গুটি, রাণীপছন্দ ও আগাম জাতের আম বাজারে উঠতে শুরু করায় সরগরম হয়ে উঠেছে বৃহৎ এ আমের বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাজারে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। তবে বাজারে আমের সরবরাহ বাড়লেও কাক্সিক্ষত মূল্য না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা।

মঙ্গলবার দুপুরে কানসাট আম বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই উপজেলার বাগান মালিক ও চাষিরা পিকআপ, ভ্যান ও ছোট ট্রাকযোগে আম নিয়ে আসছেন বাজারে। এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররা বাজারে ভিড় করছেন। দরদাম শেষে ট্রাকভর্তি করে আম কিনে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। শরিফুল ইসলাম নামের এক আমচাষি বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভালো দাম পাবো বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বাজারে দাম নেই।

স্থানীয় আমচাষি আবদুর রহমান বলেন, বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এছাড়া আম পাড়া, পরিবহন ও বাজারজাতকরণেও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে খরচ বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে নেই দাম। তারপরও লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে বাজারে পাইকারদের এক ধরনের সিন্ডিকেট প্রভাব দেখা যায়। এতে অনেক সময় চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করেন। আবার বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকলে দাম আরও কমে যায়। ফলে কয়েক মাসের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পুরোপুরি আমের চাহিদা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে চাহিদা বাড়লে আমের দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও আশা করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, আমের দাম এখন প্রায় ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এতে কৃষকের লোকসান হবে না। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।