ঢাকা | জুন ২, ২০২৬ - ১:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

দেখা নেই পাইকারদের: রাণীনগরে চামড়া কিনে বিপাকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

  • আপডেট: Monday, June 1, 2026 - 10:36 pm

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর কোরবানির পর চামড়া কিনে দ্রুত পাইকারদের কাছে বিক্রি করলেও, এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

কোরবানির কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো পাইকার কিংবা ট্যানারি প্রতিনিধির দেখা মিলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ দিয়ে ঘরের বারান্দা কিংবা গুদাম ঘরে স্তূপ করে রাখছেন। চামড়া বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা এবং বড় অঙ্কের লোকসানের আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর যেসব পাইকারদের সাথে তারা ব্যবসা করতেন, তারা এবারও চামড়া কেনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু চামড়া সংগ্রহের পর এখন আর সেসব পাইকাররা তেমন যোগাযোগ রাখছেন না। সব মিলিয়ে চামড়া নিয়ে এক ধরনের অবরুদ্ধ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরিস্থিতিতে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে এবার কোরবানির পর বিভিন্ন আকারের গরুর চামড়া মানভেদে ৪০০ থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা পর্যন্ত দরে কিনে নেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সাধারণত কাঁচা চামড়া কেনার পরপরই পাইকারদের কাছে হাতবদল করে সামান্য লাভে তারা বিক্রি করে দেন। কিন্তু এবার বাজারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। বাধ্য হয়ে চামড়া নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করার কারণে প্রতিটি চামড়ার পেছনে মূল ক্রয়ের সাথে আরও প্রায় ২৫০ টাকা অতিরিক্ত খরচ যোগ হচ্ছে। এর ওপর ঈদকে সামনে রেখে বাজারে লবণের দামও বস্তাপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার কুবড়াতলী গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বাদল জানান, এবার আমি প্রায় ৩ হাজার পিস গরুর চামড়া কিনেছি। প্রতি বছর চামড়াগুলো দুই-এক দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যেত। কিন্তু এবার কোনো পাইকার বা ট্যানারি প্রতিনিধি আমাদের কাছে না আসায় চামড়াগুলো বিক্রি করতে পারছি না। বাধ্য হয়ে লবণজাত করে খোলা জায়গায় পলিথিন টাঙিয়ে স্তূপ করে রাখছি। শেষ পর্যন্ত লাভ হবে নাকি বড় লোকসান হবে, তা জানি না।

একই গ্রামের মোতালেব হোসেন বলেন, আমি প্রায় ৮০০ গরুর চামড়া কিনে যেন এক বড় বিপদে পড়েছি। এখন পর্যন্ত একটি চামড়াও বিক্রি করতে পারিনি। কোনো পাইকার নিতে চাইলে এখন যে দামেই হোক, দিয়ে দেব। এদিকে উপজেলার হরিশপুর গ্রামের মহাতাব হোসেন জানান, এবার খাসির চামড়া নেওয়ার মতো কোনো লোকই পাওয়া যায়নি। যারা গরুর চামড়া কিনেছেন, তাদেরকেই খাসির চামড়াগুলো বিনামূল্যে (এমনিতেই) দিয়ে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ বছর সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকার ভেতরে গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে এই মূল্যের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুল হাসান জানান, এবার কোরবানির চামড়া সুরক্ষায় স্থানীয় প্রায় ১১টি প্রতিষ্ঠানে ৫ টন লবণ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের আগেই চামড়া কীভাবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ বেশ কিছু মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই চামড়াগুলো যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সেদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।