জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার: “বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক আঞ্চলিক সংলাপ: এগ্রোইকোলজি দেখাচ্ছে নতুন পথ” শীর্ষক এক আঞ্চলিক সংলাপ গতকাল সোমবার রাজশাহীর এক সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি প্রতিবেশ চর্চা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও কৃষকের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব না দিয়ে কোনো নীতি কার্যকর হবে না।
উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে এবং রোজা লাক্সেমবার্গ স্টিফটুং সাউথ এশিয়ার সহযোগিতায় আয়োজিত এ সংলাপে কৃষক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন।
সংলাপে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কৃষিতে রাসায়নিক নির্ভরতা, দেশি বীজ সংরক্ষণ, নারী কৃষকের ভূমিকা এবং এগ্রোইকোলজি ভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় স্থানীয় জ্ঞান, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, কম খরচের কৃষি এবং কৃষকের নিয়ন্ত্রণ ভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এগ্রোইকোলজি শুধু একটি কৃষি পদ্ধতি নয়, এটি পরিবেশগত ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়।
সংলাপের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বারসিকের পরিচালক সিলভানুস লামিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহেদা পূর্ণ। এ সময় কৃষিপ্রতিবেশ সঙ্কট ও সম্ভাবনা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন বারসিকের পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ অফিসার আম্রিণ বিনতে আজাদ।
গ্রিন কোয়ালিশনের রাজশাহী জেলার সভাপতি ও নদী পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে পানিনির্ভর ধান চাষের পরিবর্তে রবিশস্যের চাষ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, কৃষিপ্রতিবেশ ঠিক রাখতে হলে পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ করতে হবে।
বক্তব্য রাখেন পবা উপজেলার কারিগর পাড়ার কৃষাণী রেনুকা বেগম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান। সংলাপে আরও বক্তব্য দেন গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভিজিৎ রায়, বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংকের সভাপতি জায়দুর রহমান। সমাপনী বক্তব্য দেন বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম।










