আর্থিক অনিয়ম: ফের আলোচনায় রুয়েটের সেকশন অফিসার শিমুল
রুয়েট প্রতিনিধি: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহিদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের সেকশন অফিসার শাহ মো. জাহাঙ্গীর কামাল চৌধুরী শিমুলের বিরুদ্ধে পুনরায় আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দায়িত্ব অবহেলা ও অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হল প্রশাসনের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দ্বিতীয়বারের মতো কারণ দর্শানোর ( শোকজ) নোটিশ প্রদান করেছে।
২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সেলিম হলের বেশ কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী হল প্রভোস্ট ও উপাচার্যের কাছে শিমুল এবং কর্মচারী সুজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে অবৈধ অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা, প্রশাসনিক গাফিলতি ও চুরির মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইবনে করিমের ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ওই শিক্ষার্থী তার ১৫ হাজার টাকার বেশি হল বকেয়া নগদে শিমুলকে পরিশোধ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় বকেয়া দাবি করলে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে শিমুল নগদ অর্থ গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও ব্যাংকে জমা দেয়ার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হিসাব বইয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের তথ্য কলমে লেখা থাকলেও ওই শিক্ষার্থীর তথ্য পেন্সিলে লেখা ছিল, যা নথিতে কারচুপির সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের সিট বরাদ্দ (অ্যালটমেন্ট) এবং ক্লিয়ারেন্সের সময় নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। নিয়ম না থাকলেও ফরম বিক্রির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হতো। এছাড়াও ক্লিয়ারেন্সের সময় ‘মিষ্টি খাওয়ার’ অজুহাতে শিক্ষার্থীদের জমানো টাকা থেকে অর্থ কেটে রাখতেন শিমুল। শুধু তাই নয়, প্রকৃত বকেয়ার চেয়ে বেশি দাবি করা এবং রসিদ প্রদানে গড়িমসিরও অভিযোগ করা হয়েছে রুয়েটের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীসহ আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিমুলের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
সাম্প্রতিক এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিকের তত্ত্বাবধানে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর কামাল শিমুল প্রথমে প্রভোস্টের সম্মতির কথা বললেও পরে বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি একে ব্যক্তিগত গাফিলতি হিসেবে দাবি করেছেন।
সেলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক জানান, আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সব নথি পুনরায় যাচাই করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও অননুমোদিতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিমুলকে শোকজ করা হয়েছিল। এছাড়া হলের আরও কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধেও অনুরূপ অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।










