ঢাকা | এপ্রিল ২৪, ২০২৬ - ৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

  • আপডেট: Thursday, April 23, 2026 - 10:22 pm

উত্তরের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়:

পাবর্তীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় বয়লার পাইপ ফেটে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার রাত ১০টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ ছিল। চালু থাকা একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল। বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের সবকটিরই উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ভেঙে গেছে। এতে গত বুধবার রাত ১০টা ২ মিনিটে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, মেরামত কাজ চলছে, মেরামত করে আবার উৎপাদন সময় লাগতে পারে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে। এ ইউনিটে ৫০-৬৫ উৎপাদন হবে। এর আগে দীর্ঘদিন থেকেই ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ও ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে। ৩ নম্বর ইউনিটটি মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ২৭৫ ফিরে যাবে এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ২৫০ মে. ওয়াট। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার ওপর ভিত্তি করে খনির পাশেই ২০০৬ সালে গড়ে উঠে কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রথম অবস্থায় ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আরেকটি ইউনিট চালু করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা জটিলতায় কখনই এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একসঙ্গে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ দিন পর উৎপাদনে আসে ১৪ জানুয়ারি। বেশ কয়েক মাস ঢিমেতালে চলার পর গত ২২ এপ্রিল রাত ১০টা ১০ মিনিটে আবার ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যু কেন্দ্রের উৎপাদন।

উত্তরের ৮ জেলায় নেতিবাচক প্রভাব: এদিকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও উত্তরাঞ্চলে চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। একদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, অন্যদিকে সরবরাহে ঘাটতি। এতে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। জাতীয় গ্রিড থেকেও মিলছে না চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ। এক সপ্তাহ ধরে বেড়েছে ভ্যাপসা গরম। ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পুড়ছে অঞ্চলটি। এই গরমে সেখানে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিদ্যুৎ বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সময় নেই। যে কোন সময় বিদ্যুৎ আসে আর যায়। গ্রাম অঞ্চলে আরও বিপর্যয়।

কৃষিকাজে অচলাবস্থা: উত্তরাঞ্চল দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। সেচ পাম্পগুলো বিদ্যুৎ সঙ্কটে চলায় বোরো মৌসুমের ধানসহ অন্যান্য ফসল রক্ষায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রাইস মিল ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা হিটস্ট্রোকসহ নানা পানিবাহিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে। পার্বতীপুরের কৃষক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, খেতের মাটি ফেটে চৌচির। শ্যালো মেশিন চালাতে পারছি না কারেন্ট নাই দেখে। বড়পুকুরিয়া আমাদের ঘরের পাশে, অথচ আমরাই অন্ধকারে। এই ক্ষতি আমরা কীভাবে পূরণ করব?