১৪ কিলোমিটার সড়কে দুর্ভোগ, পাকাকরণের দাবি
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের ত্রিমোহনী থেকে ফতেপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটির ইটের সোলিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের যাত্রীরা। সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশির দশকে ফকিন্নি নদীর বাম তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরে বাঁধের ওপর ইটের সোলিং করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির আর সংস্কার হয়নি। ফলে অধিকাংশ স্থানের ইট উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সামান্য ইট থাকলেও বেশির ভাগ অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইট উঠে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে সড়কজুড়ে ধুলা উড়ছে। বর্ষায় গর্তে পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বিকল্প সড়ক না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে চার্জারভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশে যানবাহন চলাচলের সময় তীব্র ঝাঁকুনি লাগে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।
পার-নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে হেঁটেই যেতে হয়। বিভিন্ন অংশের ইট উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনে ঝাঁকুনি খেতে হয়। তাই বেশির ভাগ সময়ই হেঁটে যাওয়া-আসা করি। তিনি বলেন, সড়কটি পাকাকরণ করা না হলে তাঁদের দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।
গৃহিণী নার্গিস আক্তার বলেন, জোতবাজার থেকে বাড়িতে ফিরতে খুব কষ্ট হয়। চার্জারভ্যান কিংবা অটোরিকশার ঝাঁকুনিতে কোমরে ব্যথা হয়। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক বছর ধরে রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অটোরিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই সড়কের বিভিন্ন অংশে ইট উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীরা যেতে চায় না। জীবিকার তাগিদে অনেক কষ্ট করে গাড়ি চালাতে হয়।
নুরুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সড়কটিতে আগে ইটের সোলিং করা হয়েছিল। এখন বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটি পাকাকরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে জানতে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, সড়কটি পাকাকরণের চেষ্টা চলছে। বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হওয়ায় আগে সংস্থাটিকে মাটির কাজ করতে হবে। এরপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি পাকা করবে। এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জটিলতায় কাজটি করতে দেরি হচ্ছে। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।











