ঢাকা | অক্টোবর ৩০, ২০২৬ - ১২:০২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীর সারদায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘কে কখন আসতে চায় তা নিয়ে বিচলিত নয় সরকার’

  • আপডেট: Thursday, October 29, 2026 - 11:10 pm

স্টাফ রিপোর্টার: শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কে কখন আসতে চাইছেন বা চাইছেন না, তা নিয়ে সরকার মোটেও বিচলিত নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর এবং যে-ই আসুক না কেন, তাঁকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দল। দলটি স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তি ছিল এবং নিজেদের অরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ হত্যা ও গণহত্যা চালিয়েছে বলে জাতিসংঘের হিসাব রয়েছে এবং সরকারের হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। দলটি এখন পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা বা দুঃখ প্রকাশ করেনি, উল্টো ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে জঙ্গিবাদী তকমা দিতে চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ আবার গণতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করতে চাইলেও দেশের জনগণ তা গ্রহণ করবে না এবং সে সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও লাশের ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে তিনি কথা বলবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০০৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমানয়ে পুলিশ আজকে এই পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ আপনাদের গায়ে যে পোশাক, বুকে যে পরিচয় এবং কাঁধে যে দায়িত্ব অর্পিত হতে যাচ্ছে তা কেবল একটি চাকরির পরিচয় নয়। এটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ও ন্যায়বিচারের পথ সুগম করার এক মহান অঙ্গীকার। সব ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বকে উপেক্ষা করে জনমানুষকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অপরাধের পরিবর্তিত ধরন (সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়তি, মাদক, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ) মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া সরকার পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এএসপি প্রবেশনার মাহবুব হোসেন। কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মাইনুল হাসানসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে বেস্ট সার্জেন্ট নির্বাচিত হন ওমর ফারুক, বেস্ট একাডেমিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শুটার আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে, ক্যাডেট এসআই ব্যাচে বেস্ট ক্যাডেট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বেস্ট একাডেমিক মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শুটার  কামাল গনি।