রাজশাহীর সারদায় প্রশিক্ষণের পর কর্মস্থলে ফিরলো ২৪৬ পুলিশ কর্মকর্তা
স্টাফ রিপোর্টার: ২০০৭ সালে অন্যায় ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চাকরি হারানো পুলিশের ২৪৬ কর্মকর্তা দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে চাকরি ফিরে পাওয়ার পর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৬ মাস মেয়াদী সমাপনী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তাঁরা দেশের বিভিন্ন কর্মস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন।
জানা যায়, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর নিজ পেশায় প্রত্যাবর্তন এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব পালনের মুহূর্তে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় সারদা পুলিশ একাডেমিতে। কর্মকর্তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এস আই জাহাঙ্গীর আলম, এস আই আব্দুল মালেক, এস আই জাকের হোসেন, এস আই ফারুক হোসেন, এস আই দিপসহ একাধিক সাব-ইন্সপেক্টর জানান, সুদীর্ঘ ১৯টি বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে যে সীমাহীন কষ্ট, অনিশ্চয়তা ও সামাজিকভাবে যে লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আবার পুলিশের পোশাক গায়ে পরাতে পেরে এবং দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ পেয়ে মনে হচ্ছে জীবনের নতুন জন্ম হলো।
প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক আইনি লড়াই শেষে সত্য ও ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে। জীবনের এই কঠিন সময়ে আমাদের ওপর যে অন্যায় করা হয়েছিল, তা কাটিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার কঠোর ও আধুনিক ৬ মাসের প্রশিক্ষণ আমাদের নতুন করে উদ্দীপনা ও সক্ষমতা জুগিয়েছে। অতীতের সমস্ত তিক্ততা ভুলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের সেবায় নিজেদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে নিয়োজিত রাখাই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
২০০৬ সালে নিয়োগ পাওয়া ২৭তম ব্যাচের ১২০ জন সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ব্যাচের ২০৭ সাব-ইন্সপেক্টরকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০০৭ সালের ১৬ মার্চ চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছর লড়াই সংগ্রাম ও আইনী মোকাবেলার পরে পুনরায় চাকরি ফিরে পান তারা। এরপর ২০২৬ সালে ২০ এপ্রিলে ৮৪ জন সার্জেন্ট এবং ৫ নারীসহ ১৫৭ জন পুরুষ সর্বমোট ১৬২ জন সাব-ইন্সপেক্টর চলতি বছেেরর ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ৬ মাস ব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষন গ্রহণের জন্য যোগদান করেন।











