ঢাকা | অগাস্ট ৩১, ২০২৬ - ১১:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

দুর্গাপুর গোডাউনে মজুত সার, মাঠে সংকট, পুলিশের উপস্থিতিতে সার বিতরণ

  • আপডেট: Monday, August 31, 2026 - 10:13 pm

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুরে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সার না দেয়ার অভিযোগে নওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার লাল মোহাম্মদ লালুর গোডাউন ঘেরাও করেন কৃষকেরা।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করেন ডিলার লালু।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কৃষকেরা সোমবার বেলা ১১টার দিকে নওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার লাল মোহাম্মদ লালুর গোডাউনে গিয়ে সার চান। ডিলার ৫ থেকে ১০ কেজি করে সার দিতে চাইলে কৃষকদের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে কৃষকেরা ডিলারের লোকজনকে ধাওয়া দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। পরে কৃষকদের চাহিদা মতো সার বিতরণ শুরু করেন ডিলার লাল মোহাম্মদ লালু।

উপস্থিত কৃষকদের অভিযোগ, নওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার লাল মোহাম্মদ লালু প্রতি মাসে বরাদ্দের সার উত্তোলন করলেও কৃষকেরা সার নিতে গেলে তা দিতে চান না। সংকটের কথা বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেয়া হয়।

কৃষকদের দাবি, গত ১৫ দিন ধরে ইউনিয়নে আমন ধানসহ বিভিন্ন সবজি খেতে তীব্র সার সংকট চলছে। ডিলারের কাছে গেলে ৫ থেকে ১০ কেজির বেশি সার দেয়া হয় না। সরকারি সার রাতে বেশি দামে বাইরে বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

নওপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিবর রহমান বলেন, ‘গোডাউনের ভেতর বিশাল সারের মজুত আছে। কিন্তু সার সংকটে আমরা জমিতে সার দিতে পারছি না। সকালে এসে সার চাইলে ৫ ও ১০ কেজি করে সার দিতে চান। পরে কৃষকেরা সমবেত হয়ে গোডাউন থেকে জোর করে সার নিতে চাইলে তাঁরা সার বিতরণ শুরু করেন।’

কৃষক মামুন আলীর অভিযোগ, ডিলার লাল মোহাম্মদ নওপাড়া ইউনিয়নের বরাদ্দের সার ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে বিতরণ না করে গোপনে বেশি দামে বাইরে বিক্রি করেন। ইউনিয়নের কৃষকেরা সার নিতে এলে সংকটের কথা বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেন।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার লাল মোহাম্মদ লালু। তিনি বলেন, ‘এ মাসের জন্য ৪ টন টিএসপি, ১২ টন ডিএপি ও ৫৫ টন ইউরিয়া বরাদ্দ পেয়েছি। এসব সার স্বচ্ছতার সঙ্গে ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রি করি। কৃষকের সব অভিযোগ মিথ্যা।’

লাল মোহাম্মদ লালু আরও বলেন, ‘অনেকে একসঙ্গে দুই-তিন বস্তা সার নিতে আসেন। অথচ তাঁদের কোনো জমিই নেই। আমরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সার বিক্রি করে আসছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, হট্টগোলের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। কৃষকদের ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসতুরা আমিনা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে উপজেলায় সারসংকট নেই। বরাদ্দ অনুযায়ী সার বণ্টন করা হয়ে থাকে। কোথাও অনিয়ম হলে সেই ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’