ঢাকা | অগাস্ট ৩১, ২০২৬ - ১১:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নতুন রূপে চালু হতে যাচ্ছে রাজশাহীর মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল

  • আপডেট: Monday, August 31, 2026 - 10:28 pm

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিন অকার্যকর হয়ে থাকার পর নতুন উদ্যোগে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় অবস্থিত বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ভেতরের এই সুইমিং পুলটি খুলে দেয়ার মাধ্যমে স্থানীয় সাঁতার অনুরাগী, তরুণ সমাজ, খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষের জন্য সাঁতার অনুশীলনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সুইমিং পুলটির সার্বিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় পুলে আবর্জনা জমে এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে নগরীর ক্রীড়ামোদী ও উদীয়মান প্রজন্ম সাঁতার শেখা ও অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে সুইমিং পুলটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় ‘ক্রিস্টাল রিপন সুইমিং ক্লাব’। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৫ বছরের জন্য পুলটি ইজারা নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে সুইমিং পুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সংযোজনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ক্রিস্টাল রিপন সুইমিং ক্লাবের পরিচালক ও রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল আলী বলেন, সুইমিং পুলটি আগে চালু থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে অনেক শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণী সাঁতার শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। প্রতিটি মানুষের জন্যই সাঁতার জানা অত্যন্ত জরুরি; কারণ সাঁতার না জানার কারণে প্রায়ই পানিতে ডুবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, নগরীতে জলাশয় ও পুকুরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সাঁতার শেখার সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাই এখানে সাঁতার শেখার সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি সাঁতারকে খেলা হিসেবে আরও জনপ্রিয় করতে ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উজ্জ্বল আলী জানান, ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক সময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলাদা সময়সূচির পাশাপাশি মানসম্মত ড্রেসিং রুমের সুবিধা রাখা হয়েছে।

সুইমিং পুল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শফিউল্লাহ শেখ রিপন সময়সূচি ও ফি সম্পর্কে জানান, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়টি নির্ধারণ করা হয়েছে শরীরচর্চা, প্রাতঃভ্রমণকারী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য। এরপর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পুলটি পুরুষদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কেবল নারী ও মেয়েদের সাঁতার কাটার সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রীড়াবিদ ও পেশাদারদের জন্য সাঁতার শেখা ও অনুশীলনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুইমিং পুল ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহারের জন্য জনপ্রতি প্রতি ঘণ্টায় প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা; তবে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। এছাড়া সাঁতারু ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে গাড়ি পার্কিংয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, পোশাক ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিরাপদে রাখার জন্য লকারের ব্যবস্থা রয়েছে, যার জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা ফি প্রযোজ্য হবে।

উদ্যোক্তারা জানান, কেবল বিনোদন নয়, সাঁতারকে একটি জীবনরক্ষাকারী জরুরি দক্ষতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সুইমিং পুলটি আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস