চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত: পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সাথে কাজ করছে আনসার-ভিডিপি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে কথিত পুশইন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে এখনো এক ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। এদিকে, পুশইন ঠেকাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আনসার-ভিডিপি।
আনসার-ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট আরিফুর রহমান জানান, জেলার ভোলাহাট উপজেলার চানশিকারী, চামুসা, ভোলাহাট, গিলাবাড়ি, চরধরমপুর, সুরানপুর, পোলাডাঙ্গা ও খড়গপুর বিওপি এবং গোমস্তাপুর উপজেলার বাংগাবাড়ি বিওপিতে ৩৩ জন দক্ষ আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে বিজিবির সঙ্গে সরাসরি সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা গত শনিবার রাত থেকে বিজিবির সঙ্গে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্ত দিয়ে পুশইনের ঘটনা নতুন নয়, অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ও আলোচনা নতুন করে বেড়েছে বলে তাদের দাবি।
সীমান্তবাসীরা বলছেন, বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে জোরপূর্বক থযথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। যদিও প্রতিবারই এসব ঘটনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিজিবি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বা বিএসএফের পুশইন তৎপরতা রুখে দিয়েছে।
তবে তারা চান না, সীমান্ত এলাকায় বারবার এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। তাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক আইন, প্রচলিত সীমান্ত বিধি এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ ধরনের বিষয়গুলোর স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হোক। এছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। বাহিনীটির পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে নজরদারি, টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত জনবলও মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শুধু বিজিবিই নয়, পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সম্ভাব্য যেকোনো পুশইনের চেষ্টা বা সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য দিতে তারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারিতে সহযোগিতা করছেন।
সব মিলিয়ে, গত ৪ জুনের ঘটনার পর নতুন করে কোনো পুশইনের ঘটনা না ঘটায় সীমান্ত আপাতত শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু উদ্বেগ এখনো কাটেনি। সীমান্তবাসীর প্রত্যাশা, মানবিক ও আইনসম্মত উপায়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।











