ঢাকা | জুলাই ২৮, ২০২৬ - ১১:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাকসু কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, ৬ দফা দাবি

  • আপডেট: Tuesday, July 28, 2026 - 10:16 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদালয়ে (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি, প্রক্টর অফিসে বিশৃঙ্খলা এবং পরবর্তী সময়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা ও জিএসসহ নেতাদের মারধরের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতকরণসহ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানিয়ে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে এ দাবিগুলো তুলে ধরেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের এক নবীন নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব ও এতে রাজি না হওয়ায় ছুরি প্রদর্শন, পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি এবং পিস্তল থাকার ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহসিনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সেদিন রাতেই প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে আনাস নামে এক ব্যক্তি অভিভাবক পরিচয়ে হাজির হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও পুলিশ তাঁকে হস্তান্তর না করে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

রাকসু নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ২৭ জুলাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকালে আনাস, ছাত্রদল নেতা শাফিন ও তাঁদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালান। এতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আশ্রয় নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলেও প্রশাসনের দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, হামলার পরই আমরা বারবার প্রক্টর প্রশাসনকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানাই। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রথম থেকেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। সার্বিক উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাকসুর পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।

দাবিগুলো হলো- নারী শিক্ষার্থীকে হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধিতে ব্যবস্থা, রাকসু কার্যালয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার, দায়িত্বে অবহেলাকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অতীত নির্যাতনের সাথে জড়িত সাবেক ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের বিচার সম্পন্ন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতন বরদাশত করা হবে না জানিয়ে রাকসু নেতারা তাঁদের আইনি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।