ঢাকা | মে ৮, ২০২৬ - ৫:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ঝড় বৃষ্টি || উত্তরাঞ্চলে ৮৩ কোটি টাকার ফসলহানি, বিপাকে ১৯ হাজার কৃষক

  • আপডেট: Friday, May 8, 2026 - 12:22 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর তানোরে গতকাল বৃহস্পতিবার আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপদ। একই সাথে গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত দফায় দফায় ঝড় ও ভারী বর্ষণে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় ১৯ হাজার ৬১৪ জন কৃষক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১৩১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তানোর উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। কয়েক মিনিটের এই তণ্ডবে আকচা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানপাটের টিনের চালা উড়ে গেছে। ঝড়ের তীব্রতায় বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়া এবং গাছ উপড়ে পড়ার ফলে অনেক স্থানে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মাঠে থাকা পাকা বোরো ধান এবং আলু তোলার পর রোপণকৃত ধান বাতাসের তোড়ে মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। আম ও লিচু বাগানগুলোতে ঝরে পড়া অপরিপক্ক ফলের স্তূপ দেখা গেছে।

উপজেলার কৃষক জলিল মিঞা জানান, তার পাঁচ বিঘা জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যা তার সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস ছিল। তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছি। কিছু স্থানে ধান গাছ শুয়ে পড়েছে, যা কাটতে শ্রমিকের খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আমরা কাজ করছি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগ বাড়ছে। কৃষকদের সুরক্ষায় কৃষি বীমা এবং জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা ও কৃষি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, গত ১২ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬১৪ কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ঝড়ে নষ্ট হয়েছে প্রায় ২ হাজার ১৩১ হেক্টর জমির ফসল, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৬ জেলার আলুচাষিরা।

অধিদপ্তর আরও জানায়, উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়েছে ৯১৬ হেক্টর জমির, কলা নষ্ট হয়েছে ২২৯ হেক্টরের, শাকসবজি নষ্ট হয়েছে ৭৮ হেক্টর জমির, ভুট্টা নষ্ট হয়েছে ৬২৮ হেক্টরের, গম নষ্ট ১০২ হেক্টরের, সূর্যমুখী নষ্ট ১০ হেক্টর জমির, পেঁয়াজ বীজ নষ্ট হয়েছে ৭ হেক্টরের, মরিচ নষ্ট হয়েছে ৯ হেক্টর জমির। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি জ্বালানি সঙ্কটের এ মুহূর্তে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে চাষিদের জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, মার্চের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রওশন আলম বলেন, ‘মার্চ-এপ্রিলে জমিতে সেচ দিতে প্রায় ২০ শতাংশ বা ১২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল লাগে।’

বৃষ্টির কারণে কত জ্বালানি তেল সাশ্রয় হয়েছে জানতে চাইলে রওশন আলম বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি বৃষ্টির কারণে এ সময়ে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে।’ এছাড়া যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেচ দেওয়া হয়, সেখানেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে বলে তিনি জানান।