ঢাকা | মে ৪, ২০২৬ - ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

গোদাগাড়ীতে বোরো ধান কাটার ধুম বাম্পার ফলন হলেও দুশ্চিন্তায় কৃষক

  • আপডেট: Sunday, May 3, 2026 - 10:20 pm

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ব্যস্ততা তুঙ্গে। দিগন্তজোড়া সোনালী মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে রেকর্ড ফলনের মধ্যেও শ্রমিক সংকট ও বাজারদর নিয়ে কৃষকদের মনে কাটছে না দুশ্চিন্তা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ীতে ১৪ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টন চাল, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। কৃষি বিভাগের মতে, উচ্চ ফলনশীল ও আধুনিক জাতের ধান চাষই এই বাম্পার ফলনের মূল কারণ।

মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফলন ভালো হলেও ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে তারা বেশ চাপে রয়েছেন। কেশবপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সেরা ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ২৬ মণ পর্যন্ত ধান পাচ্ছি। কিন্তু শ্রমিকের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। বাজারে ধানের কাক্সিক্ষত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।” সরমংলা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচ জোগাতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন কিছুটা স্বস্তি দিলেও একসঙ্গে সব জমির ধান পেকে যাওয়ায় মেশিন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, “ব্রি-ধান ৮৮, ১০০ ও ১০২ জাতগুলো এ অঞ্চলে খুব ভালো ফলন দিয়েছে। শ্রমিক সঙ্কট মোকাবিলায় আমরা সরকারি ভর্তুকিতে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন্ড হারভেস্টর সরবরাহ করছি, যাতে দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে ধান কাটা সম্ভব হয়।”

তিনি আরও জানান, কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের ধান দ্রুত মাড়াই ও সংরক্ষণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের প্রধান দাবি- সরকার যেন সরাসরি মাঠ পর্যায় থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ করে এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলে তারা শ্রমের যথাযথ প্রতিদান পাবেন বলে আশা করছেন।