ঢাকা | মে ৩, ২০২৬ - ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রুয়েটে ছাত্র হল-১ এর কাজে ধীরগতি: ঠিকাদারের গাফিলতির অভিযোগ

  • আপডেট: Saturday, May 2, 2026 - 10:28 pm

রুয়েট প্রতিনিধি: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এর ছাত্রহল-১ এর উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়েও শেষ না হওয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন এইচ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ সম্পন্নে ব্যর্থতা, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে অক্টোবর, পরে ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ধারাবাহিকভাবে সময়সীমা পেছানোয় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল বলেন, কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থছাড়সহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান কাজ দ্রুত এগোবে। তবে প্রশাসনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত দায়িত্বশীলতা দেখাতে পারেনি। বরাদ্দ অর্থ অন্য প্রকল্পে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে, যা কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। বেশ কিছু কক্ষে দরজা বসানো হয়নি, সাবস্টেশন পুরোপুরি চালু হয়নি এবং নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া ওয়াইফাই সংযোগ ও লিফট স্থাপনের কাজও শেষ হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তিতে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সীমিত জনবল দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, যা ধীরগতির অন্যতম কারণ। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি না থাকায় তাদের আস্থা কমছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করতে তারা চেষ্টা করছেন। সাবস্টেশন ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এলেই বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, পাশের হল-২ এর কাজ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও হল-১ এ দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, যা তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত সব অসমাপ্ত কাজ শেষ করে হলটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে বসবাসযোগ্য করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।